• পশুহত্যা নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রান্তি! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি দিয়ে বিশেষ আর্জি নওশাদের
    প্রতিদিন | ১৯ মে ২০২৬
  • বাংলায় যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে গবাদি পশুহত্যা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে বিজেপি সরকার। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশু হত্যা করা যাবে না। সামনেই কোরবানির ঈদ। ফলে বিভিন্ন মহলে এই বিষয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। এবার এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি পাঠালেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। এই বিষয়ে কী আর্জি জানিয়েছেন ভাঙড়ের বিধায়ক?

    রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলার বিজেপি সরকার। ক্যাবিনেট মিটিং ছাড়াও আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিন কয়েক আগে গবাদি পশুহত্যা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়। সরকার গঠনের পরেই ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে গবাদি পশুর মাংস কাটা ও বিক্রিতে বেশ কিছু নিয়ম কার্যকর করেছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশু হত্যা দেওয়া যাবে না। এবার থেকে তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। 

    এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি শুরু হয়েছে। আতঙ্কও দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যে! এই প্রেক্ষাপটে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন। বিশেষ আর্জি জানানো হয়েছে। আরোপিত শর্ত সাপেক্ষে, যে কোনও প্রাণী ধর্মীয়, চিকিৎসাগত বা গবেষণামূলক উদ্দেশ্যে জবাই করার ক্ষেত্রে এই আইনের আওতা থেকে ছাড় দিতে পারে! সেই আর্জি জানানো হয়েছে চিঠিতে। সামাজিক মাধ্যমে সেই চিঠি প্রকাশ করে সেই বিষয়ে লিখেছেন আইএসএফ বিধায়ক।

    নওশাদ লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর ১২ নং ধারা অনুযায়ী, রাজ্য সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এবং আরোপিত শর্ত সাপেক্ষে, যে কোনো প্রাণী ধর্মীয়, চিকিৎসাগত বা গবেষণামূলক উদ্দেশ্যে জবাই করার ক্ষেত্রে এই আইনের আওতা থেকে ছাড় দিতে পারে। বর্তমানে ক্ষমতায় আসীন রাজ্য সরকার এই আইন প্রয়োগ করুক। এতে যেমন একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ হবে না; অন্যদিকে, পশু ব্যবসায়ীরা, হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায় নির্বিশেষে আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। এইসব বিষয় নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে চিঠি দিলাম।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)