প্রতিটি দপ্তরকে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশ মুখ্যসচিবের দপ্তরের! কী বার্তা দিলেন মনোজ?
প্রতিদিন | ১৯ মে ২০২৬
রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা ফেরাতে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রতিটি দপ্তরকে ব্যয় সংকোচনের জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিল নবান্ন। সোমবার এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে মুখ্যসচিবের দপ্তর। সেই নির্দেশকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কী কী ভাবে খরচ বাঁচানো যেতে পারে। এদিনই এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি দপ্তরের প্রধান ও জেলাশাসকদের।
মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল ওই নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী বারবারই রাজ্য সরকারের যে সম্পদ রয়েছে তার দক্ষ ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ হ্রাস, গণপরিবহন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো, রাজ্যের নিজস্ব পণ্যের প্রচার এবং নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। এজন্য কতগুলি পদক্ষেপ প্রতিটি দপ্তরকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব।
১. দপ্তরের কাজ ও পর্যালোচনার জন্য ভিডিও কনফারেন্সিং, ভার্চুয়াল সভা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বেশি ব্যবহার করা এবং যেখানে সম্ভব, দক্ষতার সঙ্গে আপোস না করে বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা। ২. অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমিয়ে দেওয়া। যেখানে সম্ভব গণপরিবহন, কারপুল ও বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার করা। ৩. সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত শক্তি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া। ৪. কাগজহীন ব্যবস্থা, ই-অফিস এবং অফিস সংক্রান্ত ব্যয় কমানো। ৫. দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের অগ্রাধিকার এবং স্বদেশি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। ৬. দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা, বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার। ৭. স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাস, যেমন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভোজ্য তেলের ব্যবহার, প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
রাজ্য সরকারের প্রতিটি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে একটি অ্যাকশন প্ল্যান দ্রুত তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে থাকবে ইমিডিয়েট, মিডিয়াম ও লং টার্ম পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনাটি আগামী ২২ তারিখের মধ্যে মুখ্যসচিবরে দপ্তরে পাঠাতে হবে। মাসিক রিপোর্ট দিতে হবে ১ জুলাইয়ে।