'পুলিশের গায়ে হাত দিলে আর রেহাই নয়', পার্ক সার্কাসের ঘটনায় কড়া হুশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পার্ক সার্কাস এলাকা। আগের দিনের অশান্তির পর সোমবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পার্ক সার্কাসে ডিসি অফিসের সাউথ-ইস্ট ডিভিশন পরিদর্শন করে আহত পুলিশকর্মীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'হঠাৎ করে মানুষ জড়ো করে পাথর ছোড়ার ঘটনা যেমন শ্রীনগরে বন্ধ হয়েছে, তেমনই কলকাতাতেও তা বন্ধ হওয়া দরকার। গতকালের ঘটনায় আমার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনেক সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। গোটা বাহিনী অত্যন্ত ভালো কাজ করেছে। তাঁদের সমর্থন জানাতেই এখানে আসা'। পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনস্বার্থে আপনারা কাজ করবেন। মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের সঙ্গে আছে, প্রশাসনও পাশে রয়েছে। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে শেষবার বলছি, কোনও পুলিশকর্মীর গায়ে হাত পড়লে সরকার প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা নেবে'।
পুলিশ বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'বিএনএস যা বলেছে এবং নেতৃত্ব যে নির্দেশ দেবে, সেই অনুযায়ী নিশ্চিন্তে কাজ করুন। কলকাতা পুলিশের গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কড়া অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, “ইতিমধ্যেই ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগরপাল নিজে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পার্ক সার্কাসই শেষ ঘটনা। বাংলায় আর এ ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। যদি কেউ আইন ভাঙার চেষ্টা করেন, তাহলে আমার চেয়ে কঠোর পুলিশমন্ত্রী আর কেউ হবে না'।
‘শহরের কোনো রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না।’ দায়িত্ব নিয়েই এই ঘোষণা ও বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিজেপি সরকার। একইসঙ্গে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে পশুহত্যা চলবে না। এমনটা হলে তা আইনত ‘অপরাধ’ হিসাবেই গণ্য করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ওই বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে পার্ক সার্কাস মোড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পথ অবরোধ করেন সংখ্যালঘু মানুষের একাংশ। পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে সেই প্রতিবাদ, অবরোধে যোগ দেন। পুলিশ অবরোধ সরানোর চেষ্টা করলে উর্দিধারীদের উপর চড়াও হন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশকে আক্রমণ করেন তাঁরা। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের একাধিক গাড়িতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় কলকাতা পুলিশ। এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।