• সবুজ মাঠের মাঝেই ‘কালো ধান’, সুগার ফ্রি ধান চাষে নজর কাড়লেন কৃষক
    News18 বাংলা | ১৮ মে ২০২৬
  • কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: চারিদিকে সবুজ ধানক্ষেত। তার মাঝেই হঠাৎ চোখে পড়ছে এক টুকরো কালো জমি। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে আগুনে পুড়ে যাওয়া কোনও পরিত্যক্ত ক্ষেত। কিন্তু কাছে গেলেই বদলে যাবে সেই ধারণা। আসলে এটা এক বিরল প্রজাতির ‘কালো ধান’ বা সুগার ফ্রি ধানের চাষ।

    পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া বিধানসভার বাঁধমুড়ো গ্রামের কৃষক কামরুল জামাল মল্লিকের এই অভিনব উদ্যোগ ঘিরে এখন এলাকায় কৌতূহলের শেষ নেই। এবারই প্রথম এই বিশেষ ধানের চাষ করেছেন কামরুল। প্রায় চার কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধানের চাষ করা হয়েছে। কৃষকের দাবি, কলকাতায় থাকা তাঁর এক ভাই বাইরে থেকে এই ধানের বীজ এনে দিয়েছেন, সেই বীজ থেকেই শুরু হয় চাষের উদ্যোগ।

    কামরুল জামাল মল্লিক জানান, “ধানটা যদি ভাল ফলন দেয় এবং লাভ হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও অনেক কৃষক এই চাষে উৎসাহ পাবেন। সেই আশাতেই চাষ করেছি।” তিনি আরও বলেন, সাধারণ ধানের মতোই পরিচর্যা করা হচ্ছে এই ধানের। আলাদা কোনও বাড়তি খাটনি নেই। তবে গাছ একটু বেশি সার খায় বলে জানিয়েছেন তিনি। কৃষকের কথায়, প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে এই ধানের ফলন পাওয়া যায়।

    এখনও ধান কাটা হয়নি, তাই ফলন বা বাজারমূল্য নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না তিনি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এই ধান নিয়ে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। অনেকেই মাঠে এসে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন এই নতুন ধরনের ধান চাষে। কামরুল জানান, যাঁদের ডায়াবেটিস বা সুগারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ধান উপকারী বলেই শুনেছেন তিনি।

    যদিও পুষ্টিগুণ বা বাজারে এর চাহিদা নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবুও নতুন সম্ভাবনার খোঁজে এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এলাকার কৃষকরা।সাধারণ ধানের ভিড়ে এই কালো ধানের ক্ষেত এখন কার্যত আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বাঁধমুড়ো গ্রামে। ফলন কেমন হয় এবং বাজারে এই ধানের গ্রহণযোগ্যতা কতটা তৈরি হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় কৃষক মহল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)