সরকার গঠন করা হলেই অভয়া কাণ্ডের উপযুক্ত বিচার হবে বলে জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা শুরু করে দিলেন তিনি। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য ED-কে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মূল ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পরে উঠে আসা আর্থিক অনিয়মের তদন্তে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চার্জশিট পেশ করেছিল ইডি। সেই চার্জশিটে নাম থাকা সত্ত্বেও সন্দীপ ঘোষ-সহ চার জনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। কারণ সন্দীপের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এত দিন রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ওই অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তবে রাজ্যে পালাবদলের পরে সোমবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সন্দীপ ঘোষকে আইনি পদ্ধতিকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য ইডি-কে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার জোরপূর্বক ও অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যায় না।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষণ করে খুন করা হয় অভয়াকে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল গোটা রাজ্য। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে পথে নামেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। ওই খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতির সন্ধান পায় CBI। সেই দুর্নীতিরই তদন্ত করছে ED।