• কনস্টেবলের চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা
    এই সময় | ১৯ মে ২০২৬
  • চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা মফিজউদ্দিন মিঁয়া। একই অভিযোগে পামিরউদ্দিন মিঁয়া নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি। যদিও পুরো ঘটনাকে বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে ঝেড়ে ফেলে দিয়েছে তৃণমূল।

    পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগে ২০২৫-এর নভেম্বরে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক চাকরিপ্রার্থী। এফআইআর অনুযায়ী, অভিযোগকারীক থেকে ৯ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে আটকে রাখা হয়েছিল তাঁর শংসাপত্র-সহ বিভিন্ন নথি। তদন্তে নেমে সুভাষ বিশ্বাস নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু পরে তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ।

    রাজ্যে পালাবদলের পরে ফের দুর্নীতির তদন্তে তৎপর হয়েছে পুলিশ। ধুলো ঝেড়ে খোলা হচ্ছে পুরোনো ফাইল। তার পরেই এই ঘটনারও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তখনই উঠে আসে কুমারগঞ্জ ব্লকের দিওর এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূল নেতা মফিজউদ্দিন মিঁয়ার নাম। এর পরেই সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। উল্লেখ্য, মফিজউদ্দিন বর্তমানে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ সালে জেলা পরিষদের দিওর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ২০২৩-এ জেলা পরিষদের নির্বাচনেও লড়েছিলেন।

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকাকালীন টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চক্র গড়ে তুলেছিলেন মফিজউদ্দিন। জেলার বহু চাকরিপ্রার্থীর থেকে তিনি কয়েক লক্ষ টাকা তুলেছিলেন বলেও অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তল বলেন, ‘চাকরি দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি পুরোনো মামলার তদন্ত চলছিল। তাতেই ওই দুই ব্যক্তির নাম উঠে আসায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী কাল তাঁদের আদালতে তোলা হবে।’

    মফিজউদ্দিনকে গ্রেপ্তারির পর থেকেই রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে গোটা জেলায়। দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরি বলেন, ‘তৃণমূলের আমলে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অনেকেই টাকা নিয়েছেন। এ বার তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ তবে ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল। তাঁর কথায়, ‘বিজপির প্রতিহিংসার কারণে গ্রেপ্তার করা হলো নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে বুঝতে পারছি না। আদৌ এই ঘটনার কোনও সত্যতা আছে কি না, আগে দেখতে হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)