• অস্ত্র মামলা থেকে চাকরি দুর্নীতি, উত্তরবঙ্গে শ্রীঘরে আরও ২ দাপুটে তৃণমূল নেতা
    আজ তক | ১৯ মে ২০২৬
  • রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই যেন উলটপুরাণ শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে। এতদিন যে দাপুটে নেতাদের ভয়ে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, এখন তাঁদেরই একের পর এক ঠাঁই হচ্ছে শ্রীঘরে। গত কয়েকদিনে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। একজনের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রকাশ্য হাসপাতাল চত্বরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর মতো মারাত্মক অভিযোগ, তো অন্যজন ফেঁসেছেন লাখ লাখ টাকার চাকরি চুরির কেলেঙ্কারিতে। নতুন জমানায় পুলিশের এই ব্যাক-টু-ব্যাক অ্যাকশনে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

    প্রথম চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ শহরে। অস্ত্র আইনের জালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রায়গঞ্জ পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর অভিজিৎ সাহা ওরফে বাপিকে। দেবীনগর এলাকার এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ একাধিক গুরুতর এবং জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃত বাপিকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ সূত্রে এই ঘটনার যে নেপথ্য কাহিনি জানা গিয়েছে, তা কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। গত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর, অর্থাৎ নববর্ষের আগের রাতে এক পিকনিকের আসরে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন তৃণমূলের যুব সহসভাপতি নব্যেন্দু ঘোষ। সেই নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে রায়গঞ্জ হাসপাতালে ছুটে যান ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ রায় ওরফে চ্যাপেল এবং তাঁর বন্ধুরা। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়েই হাসপাতাল চত্বরে চড়াও হন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি রন্তু দাস, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তপন দাসের ছেলে সানকিং দাস এবং এই অভিজিৎ সাহা ওরফে বাপি। তাঁরা প্রকাশ্যেই পিস্তলের বাট দিয়ে মেরে চ্যাপেল ও তাঁর বন্ধুদের মাথা ফাটিয়ে গুরুতর জখম করেন। সেই সময় থানায় লিখিত অভিযোগ হলেও তৎকালীন আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার রহস্যজনকভাবে অভিযোগপত্রটিকে এফআইআর না করে সাধারণ একটি ‘জিডি’ (GD) করে রেখে দেন এবং বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। চ্যাপেলের কথায়, "নতুন করে ফের লিখিত অভিযোগ দায়ের করতেই পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে।" রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, ধৃত বাপির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। তবে রন্তু ও সানকিং বর্তমানে পলাতক।

    এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পাশের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে আছড়ে পড়েছে বড়সড় দুর্নীতির ধাক্কা। রাজ্যে সরকার বদলাতেই চাকরি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন মিয়া। পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গঙ্গারামপুর থানায় এই বিষয়ে এক প্রতারিত চাকরিপ্রার্থী প্রথম অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

    তবে পুলিশ শুধু মফিজ উদ্দিন মিয়াকেই নয়, হাতেনাতে ধরেছে তাঁর এক বিশ্বস্ত সহযোগীকেও। দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা দাপুটে নেতা বিপ্লব মিত্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই মফিজ উদ্দিনের গ্রেপ্তারিতে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল এই বিষয়ে জানিয়েছেন, চাকরি দুর্নীতির এই পুরনো মামলায় তদন্ত চালাতেই এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসে। তাঁদের মধ্যে একজনকে কুমারগঞ্জ থানা এলাকা এবং অন্যজনকে ফুলবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির জল কতদূর গড়িয়েছে, তা জানতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
  • Link to this news (আজ তক)