এই সময়: শহরে ট্র্যাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু রুখতে উত্তরোত্তর কঠোর হচ্ছে লালবাজার। গত ৮ মে থেকে ১৭ মে— মাত্র ১০ দিনের বিশেষ অভিযানে হেলমেট ছাড়া মোটরবাইকে সওয়ার হওয়া ১৬,৩০৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৬৮ জন, মিনিটে গড়ে এক জনের বেশি হেলমেটহীন বাইক–চালক বা সওয়ারিকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই শহরজুড়ে হেলমেটহীন বাইকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সক্রিয়তা শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, ট্র্যাফিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর প্রবণতা রুখতে আগামী দিনেও কড়া নজরদারি জারি থাকবে। মোটরবাইক চালাতে হলে বা সওয়ারি হলে হেলমেট মাস্ট। কোনও অজুহাত মানা হবে না।
ট্র্যাফিক বিভাগ সূত্রে খবর, গত ১০ দিনে (৮-১৭ মে) েহলমেট ছাড়া বাইকে সওয়ার হওয়ার কারণে মেটিয়াবুরুজে ১০২০ জন, পাক সার্কাসে ৪৫২ জন, হাওড়া ব্রিজে ৪০৭ জন, কসবায় ৩২১ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে, গত সপ্তাহেই পুর–দপ্তরের তরফে কলকাতা পুলিশকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার অসুবিধা করে বা রাস্তা দখল করে কোনও ভাবেই বেআইনি পার্কিং বরদাস্ত করা হবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশকে। পুর–দপ্তরের ওই নির্দেশের পরেই বেআইনি পার্কিং বন্ধে তৎপর হয়েছে লালবাজার। গত দশ দিনে যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ২৭,২০১ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেআইনি পার্কিংয়ের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে সাউথ ট্র্যাফিক গার্ড (৪১৩৭) হেডকোয়ার্টার্স ট্র্যাফিক গার্ড (২৭৪৪) এবং হাওড়া ব্রিজ ট্র্যাফিক গার্ড (১৮০৭)। বেআইনি পার্কিংয়ের নিরিখে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কিছু এলাকাকে। ওই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এক্সাইড ও শেক্সপিয়র সরণি চত্বর, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম ও পার্ক স্ট্রিট এলাকা, শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, স্ট্র্যান্ড রোড ও পোস্তা। ওই সব চত্বরে কড়া নজরদারি চালানোর কথা বলা হয়েছে।
লালবাজারের ট্র্যাফিক বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘ডিজিটাল নজরদারি এবং ই-চালানের মাধ্যমে এখন আইনভঙ্গকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশকর্মীরা রাস্তায় নেমে যেমন অভিযান চালাচ্ছেন, তেমনই সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমেও নজর রাখা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে বৈধ পার্কিং লট ছাড়া রাস্তায় গাড়ি রাখলে আইনি পদক্ষেপ জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।