নয়ডার ত্বিষা শর্মা (৩১) মৃত্যুর ঘটনায় নয়া মোড়। এ বার সামনে এল দু’টি সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি খুন, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। মৃতার স্বামীর খোঁজ দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণাও করা হয়েছে। তার মধ্যে এই দু’টি সিসিটিভি ফুটেজে অনেক রহস্যের জালই খুলে যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিলস এলাকায় ত্বিষার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই সময়ে তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে দাবি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত ১০টা নাগাদ তিনি মাকে ফোন করেছিলেন। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের কথা বলছিলেন। ত্বিষার ভাইয়ের অভিযোগ, কথাবার্তার মাঝেই তাঁর স্বামী সমর্থ সিং ফোন কেটে দেন।
এর পরেই ত্বিষা এবং তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে বার বার ফোন করছিলেন তাঁর মা-ভাই। কিন্তু তাঁরা কেউ ফোন তোলেননি বলে অভিযোগ। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁদের ফোন করে বলা হয়, ‘ত্বিষার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’ যে সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে, সেটা এই দুটো ঘটনার মাঝামাঝি সময়ের বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। একটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ত্বিষা হন্তদন্ত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন। আর তাঁর শাশুড়ি অন্য একটি ঘরে চলে যাচ্ছেন।
আর একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন ত্বিষা। পাশে বসে তাঁর স্বামী সমর্থ সিং। ত্বিষাকে সিপিআর দিচ্ছেন তিনি। পরক্ষণেই দেখা গেল, আরও দুই ব্যক্তি উপরে উঠলেন। তার পরে তিন জন মিলে ধরাধরি করেন অচেতন ত্বিষাকে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে আনছেন। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁদের মেয়ের উপর চরম অত্যাচার করছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁরাই ত্বিষাকে খুন করছেন।
ঘটনায় ছ’সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে ভোপাল পুলিশ। মৃতার স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮০(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সোমবার মৃতার শাশুড়ির আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে ভোপালের একটি আদালত। তবে মূল অভিযুক্ত স্বামীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক। অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ACP) রজনীশ কাশ্যপ বলেন, ‘জামিন আবেদনে মৃতাকে মাদকাসক্ত বলা হলেও, আমরা পণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত করছি।’