• চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক অর্জুন সিংয়ের, দুর্নীতিতে জড়িত পুরকর্তাদের বেতন কাটার হুঁশিয়ারি
    এই সময় | ১৯ মে ২০২৬
  • এই সময়, নোয়াপাড়া: যে সব পুর চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার এবং পুর আধিকারিকরা দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন নোয়াপা়ডার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। সোমবার গারুলিয়া এবং উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার এবং আধিকারিকদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে পুরকর্তাদের হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে। তারপরে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। কাউন্সিলার থেকে শুরু করে পুর অধিকারিক, কেউ যদি চুরি করে থাকেন, তাঁদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।’ কারা দুর্নীতি করেছেন, তাঁদেরকে খুঁজে বের করার জন্য সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এর মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুরকর্তাদের। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পুরসভা চালাতে গিয়ে যে সব সমস্যা দেখা হচ্ছে, তার সমাধানের জন্য তিনি সবরকম ভাবে সাহায্য করবেন।

    রাজ্যে পালাবদলের পরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন পুরসভায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, সেই জট কাটাতে উদ্যোগী হয়েছেন অর্জুন। সেই লক্ষ্যে এ দিন গারুলিয়া এবং উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় বৈঠক করেন তিনি। দুই পুরসভার বৈঠকেই অর্জুন অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে পুরসভার বিভিন্ন বিভিন্ন কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। পুকুর ভরাটের পাশাপাশি অনেক বেআইনি নির্মাণও হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন বিজেপি সরকার কোনও রকম দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না। যে বা যাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদেরকে খুঁজে বের করে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। তার জন্য পুরপ্রধানদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। গারুলিয়া পুরসভায় ২০ টাকা করে যে জঞ্জাল কর নেওয়া হচ্ছ, সেটি অবিলম্বে বন্ধ করতে বলেছেন।

    অর্জুন এ দিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি কোনও পুরসভার দখল নেবে না। যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরাই পুরসভা চালাবেন। বিজেপির তরফে তাদেরকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে, যাতে পানীয় জল, আলো, নিকাশি ও রাস্তাঘাট নিয়ে কোনও সমস্যায় ভুগতে না হয় সাধারণ মানুষকে। গারুলিয়া পুর এলাকায় গঙ্গার ভাঙন এবং পুর পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্জুন। উত্তর ব্যারাকপুর পুর এলাকায় জঞ্জাল সমস্যা, পুর হাসপাতাল, রাস্তাঘাট এবং নিকাশি সমস্যা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন তিনি। সার্ভিস চার্জ বাবদ কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার। সেই টাকা যাতে পুরসভা পায়, তার জন্য তিনি দরবার করবেন বলে পুরকর্তাদের আশ্বস্ত করেছেন অর্জুন। সেই সঙ্গে তাঁর বার্তা, ‘মানুষের উন্নয়নে কোনও রকম রাজনৈতিক রং​ দেখা হবে না।’

    এ দিনের বৈঠক প্রসঙ্গে গারুলিয়ার পুরপ্রধান রমেন দাস বলেন, ‘বিধায়ক যা যা নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা সেটা পালন করব। দুর্নীতি নিয়ে তিনি যে সব অভিযোগ করেছেন, আমি খুব শিগগির দপ্তর ধরে ধরে খোঁজখবর নেব। যদি কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকে, তা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    উত্তর ব্যারাকপুরের পুরপ্রধান মলয় ঘোষ বলেন, ‘পুরসভার নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় জঞ্জাল সমস্যা রয়েছে। একটা জায়গায় জমি দেখা হয়েছে। সেটি নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সেটা বিধায়ককে জানিয়েছি। উনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বিধায়কের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই আমরা কাজ করব, যাতে মানুষ কোনও ভাবেই পুর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন।’

    গারুলিয়া ও উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভা ছাড়াও নোয়াপাড়া বিধানসভার অধীন মোহনপুর এবং শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েও পঞ্চায়েত সদস্য এবং আধিকারিকদের সঙ্গেও আলদা করে বৈঠক করেন অর্জুন। যদিও মোহনপুরের পঞ্চায়েত প্রধান সেই বৈঠকে গরহাজির ছিলেন।

    মোহনপুর পঞ্চায়েত অফিসে এ দিনের বৈঠকে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান নির্মল করের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন বিধায়ক। বলেন, ‘এখানকার যিনি প্রধান আছেন, তিনি ওবিসি নন। তা সত্ত্বেও তিনি এবং তাঁর ছেলে নিজেদের নামে ওবিসি সার্টিফিকেট বের করেছেন। ওঁকে এখনই জেলে পাঠানো উচিত।’ অর্জুন আরও অভিযোগ করেন, মোহনপুরে হাইড্রেনের মাটি কেটে বিক্রি করা দেওয়া হয়েছে। খাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একের পর এক জলাশয় ভরাট ও বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। শিউলি পঞ্চায়েতে গিয়েও একই অভিযোগ করেন নোয়াপা়ডার বিধায়ক।

  • Link to this news (এই সময়)