এই সময়, পেট্রাপোল: রাজ্যে পালাবদলের পরে নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ–কে জমি হস্তান্তর করবে রাজ্য সরকার। সেই মতো সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য জমি চিহ্নিত করে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে সোমবার বাগদা এবং পেট্রাপোল থানায় পুলিশ ও বিএসএফের কর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করেন বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত। বৈঠকে মূলত সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার বসানো, জমি অধিগ্রহণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পেট্রাপোল সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
বৈঠক শেষে বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বনগাঁ মহকুমার সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি চিহ্নিতকরণ, জমি অধিগ্রহণ, জমি হস্তান্তর এবং সীমান্ত এলাকার সুরক্ষা নিয়ে আজ বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করেছি আমরা। সেই মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’
উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরী সারিয়া বলেন, ‘উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রায় ৩৫৩ একর জমি প্রয়োজন। এর মধ্যে ১৮০ একর জমি ইতিমধ্যেই বিএসএফ–কে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি অংশের হস্তান্তর খুব শিগগির করা হবে। এর জন্য তিনদিন অন্তর পুলিশ এবং বিএসএফ–কে নিয়ে বৈঠক করা হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত। তার মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার হলো স্থলপথ। বাকি ১৬৫ কিলোমিটার জলপথ। বনগাঁ থেকে বাগদা, গাইঘাটা এবং বসিরহাট মহকুমায় বাংলাদেশ সীমান্তে রয়েছে অনেক নদী ও জলাশয়। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে বসিরহাট মহকুমার তিনটি মৌজায় কিছুটা জট রয়েছে। সেই জট কাটাতে রবিবার জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় বৈঠক হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, বাগদার বয়রা, রনঘাট, উত্তর বয়রা এবং লক্ষ্মীপুর এলাকায় অনেক জায়গাতেই কাঁটাতার দেওয়া নেই। পেট্রাপোল, জয়ন্তীপুর এলাকাতেও বেশ কিছু অংশে কাঁটাতার নেই। গাইঘাটার ঝাউডাঙা, আঙরাইল, সুটিয়া সীমান্তেও বহু জায়গায় এখনও কাঁটাতার বসেনি। গাইঘাটার আঙরাইল সীমান্তে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকায় কোনও কাঁটাতার নেই। সেখানে প্রায় ১০০ একর জমি প্রয়োজন। জমি কেনা হয়েছে ৬০ একর। বনগাঁ ব্লকে কাঁটাতারের জন্য ২৪ একর জমির প্রয়োজন। তার মধ্যে ১৪ একর জমি কেনা হয়েছে। বাগদায় ৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাঁটাতার নেই। এখানে জমি লাগবে ৯৯ একর। তার মধ্যে মাত্র ৬৮ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁটাতার না থাকায় এই সব জায়গা দিয়েই সবথেকে বেশি অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। সোনা, গোরু, ওষুধপত্র, অস্ত্র, মাদক–সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সেখান দিয়ে পাচার হয়। বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরাও যখন তখন ঢুকে পড়ে। ফলে সীমান্ত এলাকার মানুষকে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। তাই কাঁটাতার বসানোর উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন তাঁরা।
বনগাঁর কালিয়ানী বিল এলাকার বাসিন্দা সুকুমার হালদার বলেন, ‘রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। কাঁটাতার থাকলে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য কমবে, চোরাচালান বন্ধ হবে। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারব। কাঁটাতার বসানোর জন্য আমরা ন্যায্য মূল্যে জমি দিতে রাজি আছি।’