'মমতা সরকার তদন্ত আটকে রেখেছিল', আরজি কর কাণ্ডে সন্দীপের বিরুদ্ধে ইডিকে ছাড়পত্র শুভেন্দুর
আজ তক | ১৯ মে ২০২৬
আরও বিপাকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। রাজ্যে পালা বদলের পরই তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার সন্দীপের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা চালানোর জন্য ইডিকে অনুমতি দিয়েছে। আর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টা নিয়ে বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। গত ৯ই অগস্ট ২০২৪ সালে আরজি.কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বোন অভয়ার নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় তৎকালীন আর.জি. কর-এর সুপার কুখ্যাত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী ইডি কে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি প্রদান করা হলো (Sanction of Prosecution has been accorded)।'
এখানেই শেষ না করে শুভেন্দু আরও দাবি, পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার জোর করে তদন্ত আটকে রেখেছিল। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পরই ইডিকে ছাড়পত্র দেওয়া হল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অভিযোগ, 'বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার জোরপূর্বক ও অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যায় না। আমি চাই, বোন অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক, কঠোরতম শাস্তি পাক এবং বাংলার মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করুক।'
এই পোস্টের পাশাপাশি অর্ডারের কপিটাও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মাথায় রাখতে হবে, আরজি কর খুন এবং ধর্ষণের ঘটনায় আতস কাচের তলায় রয়েছে তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপের ভূমিকা। তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ডেও তিনি জড়িত থাকতে পারেন বলে দাবি। আর নতুন সরকার তার বিরুদ্ধেই এবার ইডি তদন্তের ছাড়পত্র দিল।
ফের মামলা গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট
ফের কলকাতা হাইকোর্টে উঠছে আরজি কর মামলা। আজই বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা উঠছে বলে খবর। নির্যাতীতার বাবা-মা সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়ের ফাঁসির দাবি তুলেছেন। অভয়ার মা রত্না দেবনাথ মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন। আর তার ঠিক আগেই মুখ্যমন্ত্রী তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপের বিরুদ্ধে ইডিকে তদন্ত চালানোর অনুমতি দিলেন।