• সোনা ও নগদে ৬২ লক্ষ, দামি গাড়ি পাওয়ার পরও খুন বধূকে
    বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: মেয়ের বিয়েতে যৌতুক হিসাবে দিয়েছিলেন ১১ লক্ষ টাকা, ৫১ লাখের সোনার গয়না, ফরচুনা-স্করপিওর মতো বিলাসবহুল গাড়ি। সবমিলিয়ে খরচ করেছিলেন প্রায় ১ কোটি টাকা। অথচ বিয়ের ১৭ মাসের মাথায় মেয়ের মরা মুখ দেখলেন বাবা। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়েকে খুন করেছে। কারণটাও স্পষ্ট। দাবি, এই বিপুল অঙ্কের পণ পেয়েও মন ভরেনি মেয়ের শ্বশুরবাড়ির। দিনের পর দিন সেই কারণে মেয়ের উপর অত্যাচার চালিয়েছে তারা। শেষ পরিণতি হল মৃত্যু। ইতিমধ্যেই মৃতার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

    দেশে যৌতুক সংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। তালিকায় নয়া সংযোজন বছর ২৫ দীপিকা নাগেরের মৃত্যু। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নয়ডার বাসিন্দা সঞ্জয় নারাং-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়ির দাবি মেনে বিপুল অঙ্কের পণ দেয় দীপিকার পরিবার। মৃতার বাবার কথায়, ‘৫১ লক্ষ নগদ আর ফরচুনার গাড়ি দাবি করেছিল ওরা।’ বাস্তবে দেওয়া হয়েছিল তার চেয়েও বেশি। তবু মন ভরেনি শ্বশুরবাড়ির। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হয় অত্যাচার। দিনে দিনে তা বাড়তে থাকে। দীপিকার বাবার কথায়, ‘রবিবার সকালে মেয়ে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানায়। বিকেলে কয়েকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টার নিষ্পত্তি করতে ওর শ্বশুরবাড়ি যাই। কথাও হয় সবার সঙ্গে। কিন্তু মাঝরাতে ওর শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানাল আমাদের মেয়ে ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছে।’ তাঁর দাবি, এই মৃত্যু সাধারণ নয়। লাগাতার অত্যাচারের পর ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে দীপিকাকে। তিনি আর জানান, ‘মেয়ের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নাক-কান থেকে রক্ত বেরচ্ছিল।’ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌছয় পুলিশ। দীপিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর স্বামী ও শ্বশুরকে। সেন্ট্রাল নয়ডার ডিসিপি শৈলেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)