উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী, সাফসুতরো শুরু
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: চলতি সপ্তাহে শিলিগুড়ি আসার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যেতে পারেন। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎপর হয়েছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।
এরই মধ্যে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রধান সচিব এস স্বরূপ নিগমের নির্দেশিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দেশিকায় একাধিক নির্দেশ রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম হাসপাতাল চত্বর থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া। রবিবার দুপুরের মধ্যেই সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে শুধু অ্যাম্বুলেন্স সরানোই নয়, আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। যেমন, মেঝেতে রোগী রাখা যাবে না। দালালচক্র বন্ধ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে কেউ হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করতে পারবে না বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। নির্দেশিকা কার্যকর করার আগে ও পরে হাসপাতালের পরিস্থিতির ছবি সহ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সোমবার হাসপাতালে দেখা যায়, কিছু নির্দেশিকা কার্যকর হলেও এখনও বহু সমস্যা রয়ে গিয়েছে। একাংশ রোগীকে মেঝেতে শুয়ে থাকতে হচ্ছে। করিডর ও ওয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় নোংরা পরিবেশ ও দুর্গন্ধের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি দালালদের অবাধ বিচরণের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের কিছু কর্মীর মদতে আউটডোর থেকেই রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে বেসরকারি ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। ফলে দুর্নীতি ও অনিয়ম দমন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে তাঁর সামনে কতটা ‘দুর্নীতিমুক্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ’ হাসপাতালের ছবি তুলে ধরা সম্ভব হবে, তা নিয়ে চিন্তায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সফর চলাকালীন হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য মৌখিক নির্দেশও জারি করা হয়েছে। হাসপাতাল সংলগ্ন বেসরকারি ফার্মেসিগুলিতেও এর প্রভাব পড়েছে। এক ফার্মেসি মালিক জানান, বুধবারে বিকেল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দালালরাজ, মেঝেতে রোগী রাখা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কতটা দ্রুত বদলানো সম্ভব হবে, তা নিয়েই এখন দফায় দফায় বৈঠক চলছে হাসপাতাল প্রশাসনে। হাসপাতালের অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
নির্দেশিকা পাওয়ার আগেই আমরা হাসপাতালকে নিয়মের মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সরানো হয়েছে। হাসপাতাল চত্বর থেকে দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত এগচ্ছে। এদিন সকালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারদের নিয়ে হাসপাতাল ঘুরে কোথায় কী সমস্যা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।