চাঁচলে আটটি পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের কাজে ২০ কোটির বেশি দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, চাঁচল: মালদহের চাঁচলে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এই প্রকল্প বন্ধ হওয়ার আগের তিন বছরে চাঁচল-১ ব্লকের আটটি পঞ্চায়েতে ২০ কোটি টাকার বেশি তছরুপ হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। তার মধ্যে শীর্ষে ছিল ভগবানপুর ও খরবা পঞ্চায়েত। বিশেষ করে কলা চাষ ও অন্যান্য চারা রোপণের নামে এই প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। এমনকী মাটি কাটার কাজ না করে বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দ্রুত সবকিছুরই তদন্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি।
২০২০ সালে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের প্রকল্প স্থগিত করে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরে কেন্দ্রীয় এজেন্সি রাজ্যে তদন্তে আসে। প্রকল্প চালুর দাবিতে তৃণমূল নেতৃত্ব দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করে। কিন্তু টাকা মেলেনি। রাজ্যে এবার পালাবদল হতেই সেই কাজ চালু হচ্ছে। ১০০ দিন থেকে আরও ২৫ দিন শ্রমদিবস বাড়ানো হবে। এলাকায় কাজ না থাকার কারণে চাঁচলের শ্রমজীবী মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হয়েছে। বিজেরি দাবি, প্রকল্প স্থগিত হওয়ার পূর্বে চাঁচলের আটটি পঞ্চায়েতের মধ্যে ছ’টি তৃণমূলের দখলে ছিল। বিশেষ করে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতেই দুর্নীতি সীমা ছাড়িয়েছিল। ভগবানপুর ও খরবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এনিয়ে একাধিকবার অভিযোগ ওঠে। হার্টিকালচার প্রকল্পে কলাচাষের জমি নিড়ানির জন্য ১০০ দিনের কাজে শ্রমিকের কাজ করানো হত। অভিযোগ, কলাচাষ না করেই টাকা আত্মসাৎ করে তৃণমূলের পঞ্চায়েত। এমনকী চারাগাছ না লাগিয়েই ভুয়ো বিল বানিয়ে টাকা তুলেছে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। আর অন্যান্য পঞ্চায়েতগুলিতে মাটি কাটার কাজ করা হত ঠিকই, তবে শ্রমিক কম ও জবকার্ড বেশি দেখিয়ে বিল আত্মসাৎ করা হত। একারণেই এরাজ্যে প্রকল্প স্থগিত করে কেন্দ্র।
চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান বিজেপি সদস্য তথা মালদহ উত্তরের যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মা বলেন, প্রত্যেকটি পঞ্চায়েত গড়ে প্রায় তিন কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। বিশেষ করে ভগবানপুর ও খরবা পঞ্চায়েত এই দুর্নীতি বেশি। মানুষের টাকা মেরে খেয়েছে তৃণমূলের নেতারা। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক।
খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান তৃণমূলের উপপ্রধান মলয় বসাক ও ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান আলো মহলদার বলেন, আমরা যখন নির্বাচিত হই, তখন এই প্রকল্প চালু ছিল না। এবিষয়ে কিছু বলত পারব না।
মালদহ উত্তরের জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিঙ্ঘানিয়ার কথায়, রাজ্যে ১৫ বছর ধরে চলা প্রত্যেকটি প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত হবে। তৃণমূলের যতই বড় নেতা হোন না কেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না। পাল্টা মালদহ জেলা তৃণমূলের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, দুর্নীতির জন্য নয়, রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলায় এই প্রকল্প স্থগিত করে রাখে। তারা বাংলায় ক্ষমতায় আসার জন্য এই পরিকল্পনা নিয়েছিল।