এবার ফাইল খোলা হবে এসজেডিএ’র! কেউ রেহাই পাবে না, হুঁশিয়ারি বিধায়ক আনন্দময়ের
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এসজেডিএ) কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত কমিশন গড়তেই ত্রাহিত্রাহি রব উঠেছে বিভিন্ন মহলে। প্রশাসন সূত্রের খবর, বিভিন্ন সময় এসজেডিএ’র বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেগুলির মধ্যে একযুগ আগে ২০০কোটি টাকার কেলেঙ্কারি সর্ববৃহৎ। ঘটনায় অভিযুক্তদের কেউ রেহাই পাবে না বলে সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন।
অন্যদিকে, বিগত পাঁচ বছরে এসজেডিএ’র কাজের ফাইল খোলার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রের খবর, সেই ফাইলের তালিকায় রাস্তা তৈরি, আবাসনে ঘর বিলি, জমি হস্তান্তর প্রভৃতি বিষয় রয়েছে।
অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। এসজেডিএ’র চিফ এগজিকিউটিভ বীর বিক্রম রাই বলেন, গত পাঁচ বছরের কাজের সব নথি, ফাইল বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত কাজের অডিট করা হবে।
২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এসজেডিএ’তে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০১৩ সালে ওঠা ২০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ অন্যতম। অভিযোগ, সেই সময় ফুলেশ্বরী নদী সংস্কার, শ্মশান তৈরি, ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ বসানোর নামে সরকারি অর্থের ব্যাপক অনিয়ম হয়। ওই ঘটনায় একটি চক্র জড়িত ছিল। গ্রেপ্তার হন এক পদস্থ আধিকারিক।
বিজেপির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বলেন, ওই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র। এবার অভিযুক্তদের কেউ রেহাই পাবে না। এ ব্যাপারে এসজেডিএ’র প্রাক্তন এক চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অসুস্থতার কারণে তিনি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি।
যদিও বোর্ডের অন্যতম প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌতম দেব বলেন, ওই ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে সমগ্র বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছিল। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও (ইডি) ওই ঘটনার ফাইল নেয়। তারা কিছু করেনি। নতুন সরকার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতেই পারে।
বোর্ডের আরএক প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ওই কেলেঙ্কারি আমার সময় হয়নি। বিষয়টি নিয়ে নতুন সরকার তদন্ত করতেই পারে।
সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কমিটির নেতা তথা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তাপস সরকারের মন্তব্য, প্রাতিষ্ঠানিক ওই কেলেঙ্কারির নায়কদের ধরা উচিত। এদিকে এসজেডিএ-র তৎকালীন বোর্ডের সদস্য তথা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর মালাকার বলেন, ওই অনিয়মের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে যা পারে করুক। আমার কিছু যায় আসে না। অন্যদিকে, গত পাঁচ বছরে কাওয়াখালিতে আবাসন তৈরি করে লটারির মাধ্যমে ঘর বিলি করা হয়েছে। সেই লটারি নিয়েও ওঠে অনিয়মের অভিযোগ। এর বাইরে বিল্ডিং প্ল্যান পাস, এলইউসিসি প্রদান, জমি হস্তান্তর, নির্মাণ কাজ প্রভৃতি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ঘুঘুরবাসা ভাঙতেই এসজেডিএ’র ফাইলগুলি খুলছে প্রশাসন।