সম্প্রসারিত হবে ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, মিটতে চলেছে জঙ্গিপুর ও রঘুনাথগঞ্জের দীর্ঘদিনের যানজট
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: অবশেষে কাটতে চলেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষা। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগকারী সীমান্ত ঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে শুরু হতে চলেছে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ। রাজ্য প্রশাসনের সবুজ সংকেত মিলতেই ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়ককে ফোর লেনের করার তৎপরতা তুঙ্গে। পালাবদলের পর গত শুক্রবারই রাজ্য সরকারের তরফে ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ এবং ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’-কে এই মর্মে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষত জঙ্গিপুর থেকে লালগোলা পর্যন্ত কয়েক কিমি রাস্তা ফোর লেনের হলে যানজট থেকে মুক্তি মিলবে। এ খবরে অত্যন্ত খুশি শহরবাসী।
এ প্রসঙ্গে জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডি বলেন, বিষয়টি আমি সংবাদপত্র মারফত জেনেছি। আমার কাছে এখনও কোনো সরকারি নির্দেশিকা আসেনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুরের ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে শুরু করে উমরপুর, লালগোলা, ভগবানগোলা, ডোমকল, জলঙ্গি, করিমপুর, তেহট্ট, কৃষ্ণনগর, বনগাঁ হয়ে বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই মহাসড়ক। দীর্ঘ ৩২৯ কিলোমিটার ব্যাপী এই ফোর লেনের রাস্তাটি সরাসরি যুক্ত হবে ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে। এই রাস্তা সম্প্রসারণের ফলে সবথেকে সুবিধা হবে রঘুনাথগঞ্জ শহরবাসীর। বছরের পর বছর ধরে রঘুনাথগঞ্জের মানুষকে তীব্র যানজটের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। তা থেকে এবার মিলবে মুক্তি। প্রকল্প অনুযায়ী, রঘুনাথগঞ্জে ভাগীরথী নদীর উপর বর্তমান সেতুর পাশাপাশি একটি নতুন সেতু তৈরি হবে। নতুন সেতুটি চালু হলে একদিকের লেনে গাড়ি যাতায়াত করবে এবং অন্য লেনে বিপরীতমুখী গাড়ি চলবে। ফলে শহরের মূল কেন্দ্র রঘুনাথগঞ্জ দাদাঠাকুর ট্রাফিক মোড়, ফুলতলা মোড়, মিয়াপুর রেল ওভারব্রিজ, সাইদাপুর বাজার এলাকায় আর গাড়ির লম্বা লাইন পড়বে না। এলাকার ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, ফোর লেনের কাজ শেষ হলে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ যেমন মসৃণ হবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে কৃষিজাত পণ্য পরিবহণে সময় ও খরচ দুই-ই অনেক কমবে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পে গতি আসায় রঘুনাথগঞ্জ ও জঙ্গিপুর মহকুমার মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয় বাসিন্দা আশিস দাস বলেন, ভাগীরথীর ব্রিজে জ্যামে আটকে থাকা আমাদের নিয়তি ছিল। নতুন ফোর লেন আর একটা আলাদা ব্রিজ হলে এই নরকযন্ত্রণা থেকে বাঁচা যাবে। রঘুনাথগঞ্জের চেহারাটাই বদলে যাবে। যদিও এই মেগা প্রকল্প নিয়ে এখনই জানাতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। জঙ্গিপুর পূর্তদপ্তরের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার রাজদীপ সাহা বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মারফত অনুমতির বিষয়টি জেনেছি, তবে দপ্তরে এখনও পর্যন্ত এই কাজের কোনো লিখিত সরকারি নির্দেশিকা এসে পৌঁছায়নি। রঘুনাথগঞ্জ ১ ব্লকের বিডিও আশিস সেনও একই কথা বলেন।
তবে নির্দেশ পাওয়া মাত্রই জমি চিহ্নিতকরণ বা প্রাথমিক কাজ শুরুর জন্য প্রশাসন যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তা আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন পূর্তদপ্তরের আধিকারিক। রাজ্য সরকারের সবুজ সংকেত মেলার পর এখন শুধু মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর অপেক্ষা। আর তাতেই বুক বাঁধছে রঘুনাথগঞ্জবাসী।