• জেলা সভাধিপতি সহ কর্মাধ্যক্ষরা গরহাজির, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদে অচলাবস্থা
    বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভোটের আগে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি গার্গী নাহা একটি সভা থেকে বলেছিলেন, তৃণমূল জিতলে পাঁচ বছর করে খাওয়া যাবে। তৃণমূল জেতেনি। তারপর থেকে সহ সভাধিপতিকে আর জেলা পরিষদে দেখা যাচ্ছে না। ভোটের ফল বেরনোর পর দু’ দিন কিছুক্ষণের জন্য জেলা পরিষদে এসেছিলেন সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। তারপর তাঁকেও আর দেখা যাচ্ছে না। কর্মাধ্যক্ষরাও আসছেন না। অচল অবস্থা জেলা পরিষদে। বিজেপির কেউ এসে কাজে বাধা দেয়নি। তারপরও জনপ্রতিনিধিরা না আসায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, কোনো বোর্ড‌ই তারা ভাঙছে না। উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা আসছে না বলে অভিযোগ। গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, জেলা পরিষদ সহ সব জায়গাতেই সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার ছাড়া কাজ পেত না। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সবকিছু তদন্ত করে দেখা হবে। আমরা কোথাও বোর্ড চালাতে বাধা দেব না।

    সোমবার বর্ধমান জেলা পরিষদে গিয়ে কোনো জনপ্রতিনিধির দেখা মিলল না। সরকারি কর্মী এবং আধিকারিকরা অবশ্য ছিলেন। এক আধিকারিক বলেন, জেলা পরিষদে উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনতে জনপ্রতিনিধিদের বড় ভূমিকা থাকে। কোন কাজ হবে, সেটা তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেন। দিনের পর দিন তাঁরা অনুপস্থিত থাকলে কাজ থমকে যাবে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে বিকল্প পদক্ষেপ করতে হবে। সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার অবশ্য বলেন, জেলা পরিষদে যাচ্ছি না এটা ঠিক নয়। উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, প্রায় দিনই অফিসে যাচ্ছি।

    জেলা পরিষদের কাজ নিয়ে এসেছিলেন মৃন্ময় দাস। তিনি বলেন, এনিয়ে দু’ দিন এসে ফিরে গেলাম। সভাধিপতির কাছে কাজ ছিল। উনি আসেননি। অন্যান কর্মাধ্যক্ষদেরও দেখলাম না। 

    জেলা পরিষদে  এসেছিলেন শ্রীমন্ত হালদার। তিনি বলেন, ভোট মিটে যাওয়ার পর কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। ভেবেছিলাম সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের কাউকে দেখলাম না। বিজেপির এক নেতা বলেন, শুধু জেলা পরিষদ নয়, সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কাজ খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও সরকারি টাকা অপচয় হলে কাউকে ছাড়া হবে না। আমাদের কাছে খবর রয়েছে, কাজ না করেই অনেক ক্ষেত্রে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যে কাজ দেড় থেকে দু’ লক্ষ টাকায় হয়ে যাওয়ার কথা, সেটা সাত থেকে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য নুরুল হাসান বলেন, জেলা পরিষদের অনেক কাজ নিয়েই প্রশ্ন আছে। ঠিকমতো কাজ হয়নি। সেগুলি নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। জনপ্রতিনিধিরা না এলে সরকারের উচিত অন্য ব্যবস্থা নেওয়া।  পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ।
  • Link to this news (বর্তমান)