বিধানসভা: বিরোধী দলনেতার মর্যাদা প্রদানে টালবাহানায় ক্ষোভ তৃণমূলের
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীকে ৮০ জন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও প্রধান বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দিতে অহেতুক টালবাহানা করছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। এমনই অভিযোগ তৃণমূলের। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার প্রধান সচিবের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
প্রথামাফিক, বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে গেলে প্রয়োজন হয় সেই দলের ৩০ জন নির্বাচিত বিধায়কের সম্মতি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে কংগ্রেস ও সিপিএমের থেকে অনেক বেশি আসন পেয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল বিধায়ক ৮০ জন। সেইমতো বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার জন্য মনোনীত করে দল।
কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর এই বিষয়টি লিখিত আকারে প্রকাশ করেন দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি লিখে তিনি অনুরোধ করেন, দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার পদ দেওয়া হোক। কিন্তু অভিযোগ, পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও তাঁকে সেই পদ দেওয়া হয়নি। এমনকি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরটিও তালাবন্ধ!
সোমবার বিধানসভায় গিয়ে প্রধান সচিবের সঙ্গে দেখা করে গোটা বিষয়টি জানান শোভনদেববাবু। আরটিআই করে লিখিত অভিযোগও জানান তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়ক রয়েছেন। স্পিকার নির্বাচনের দিন আমি বিধানসভায় ছিলাম। আমার দলের পক্ষ থেকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতসবের পরেও অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি এবং টালবাহানা করা হচ্ছে। নানা কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। দলের রেজ্যোলিউশন, বিধায়কদের সম্মতিপত্র চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিধানসভার গাইডবুকে ওই কাগজপত্রের কোনো উল্লেখ নেই।
পাশাপাশি, তৃণমূল বিধায়কদের আশঙ্কা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলীয় পদের (সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক) লেটার হেডে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলেই কি তা গ্রহণ করা হচ্ছে না? পালটা প্রোটেম স্পিকার তথা বিজেপির বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায়ের যুক্তি, বিধানসভা কর্তৃপক্ষ সঠিক নিয়মেই চলছে। যদি রেজ্যোলিউশন বা বিধায়কদের সম্মতিপত্র চাওয়া হয়, বিরোধী দলের দিয়ে দেওয়া উচিত।