আরজি কর মামলায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত করার অনুমতি দিল রাজ্য সরকার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ মে ২০২৬
আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে করার অনুমতি দিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে জানান, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে ‘ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিবের সই করা সরকারি নির্দেশিকার প্রতিলিপিও প্রকাশ করেন।
সরকারি কর্মচারী হওয়ায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সেই অনুমতি মেলেনি এবং তদন্ত দীর্ঘ দিন আটকে ছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই সেই অনুমোদন দেওয়া হল বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে ইডির পথ অনেকটাই পরিষ্কার হল।
সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, গত বছরের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ‘বোন অভয়া’র উপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে রেখেছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্যপাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ হওয়া নথি ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে প্রাথমিক ভাবে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যকলাপ ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গিয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২০বি ও ৪২০ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর অধীনেও বিষয়টি তদন্তযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সূত্রেই সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি ‘মা তারা ট্রেডার্স’, ‘ইশান ক্যাফে’ ও ‘খামা লোহা’-র বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই সংক্রান্ত নির্দেশের কপি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব এবং ইডির সংশ্লিষ্ট কর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।এদিকে নির্যাতিতার পরিবার বরাবরই দাবি করে এসেছে, এই ঘটনায় শুধু সঞ্জয় রায় নন, আরও অনেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত। সদ্য নির্বাচিত পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মা নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি সিলবন্দি চিঠি পাঠিয়ে তদন্তের পরিধি বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, মৃতদেহ দ্রুত সৎকার করে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টায় কয়েক জন প্রভাবশালীর ভূমিকাও সন্দেহজনক ছিল। সেই তালিকায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামও উঠে এসেছে।