ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এবার ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই বিধায়কের কার্যালয় খোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য চালু করা হবে নির্দিষ্ট ফোন নম্বর ও ইমেল আইডি। তবে এই পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছে ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডকে।
সোমবার ভবানীপুরে আয়োজিত এক সভায় এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। সভাস্থল ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের কাছেই। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বিধায়ক কার্যালয় তৈরি করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। তিনি বলেন, দিন-রাত মানুষের পাশে থাকার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরাও থাকবেন। তবে পরে শুভেন্দু স্পষ্ট করে জানান, ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে শুধুমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোনও বিধায়ক কার্যালয় খোলা হবে না। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। নির্বাচনের আগে শুভেন্দু দাবি করেছিলেন, ভবানীপুরের অধিকাংশ ওয়ার্ড থেকেই তিনি এগিয়ে থাকবেন। বিশেষ করে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর জয়ের ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে তিনি এ-ও বলেছিলেন, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে মমতার প্রভাব বেশি থাকবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে শুভেন্দু প্রত্যাশিত ফল পাননি। সেই কারণেই বিধায়ক কার্যালয় গঠনের পরিকল্পনায় ওই ওয়ার্ডকে বাদ রাখা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই ভবানীপুরের ৭৩, ৭৪ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয় শোভাযাত্রাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।