পরিষেবায় জোর, দূরপাল্লাতেও বিনামূল্যে বাসযাত্রা মহিলাদের, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বন্ধ ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীঘা হোক বা শিলিগুড়ি, লোকাল হোক দূরপাল্লার—সরকারি বাসে এবার বিনা খরচে যাত্রা করতে পারবেন মহিলারা। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি বসে যাতায়াত করতে পারবেন বলে আগেই জানিয়েছিল বিজেপি সরকার। তবে দূরপাল্লার বাসেও এই সুবিধা মিলবে কি না, স্পষ্ট ছিল না। এদিন মন্ত্রী সাফ বলেন, ‘যেকোনো সরকারি বাসেই মহিলাদের ভাড়া লাগবে না।’
মহিলাদের বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাত্রার সুবিধা তো মিলল! কিন্তু রাস্তায় সরকারি বাসের সংখ্যা খুব কম। তাই কিছু ব্যাটারিচালিত বাস শীঘ্রই কেনা হবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর কথায়, ‘এই মুহূর্তে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি বাসের যে বর্তমান পরিকাঠামো রয়েছে, সেটিই আমরা ব্যবহার করব। জুন মাসে আমরা বাজেট পেশ করতে চলেছি। তারপর অবশ্যই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এটাও বলেছেন যে, আমরা কিছু নতুন ইলেকট্রিক বাস নেব।’ এখনই বাসভাড়া বাড়ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নয়া সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। জুন মাস থেকে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ভাতা (পুরোহিত, ইমাম ও মোয়াজ্জেন ভাতা) রদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। তবে বিভিন্ন স্তরের পড়ুয়াদের জন্য যেসব স্কলারশিপ চালু আছে, সেগুলি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, আগামী ১ জুন থেকেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। যাঁরা এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পেয়ে এসেছেন, তাঁরা সবাই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তাঁদের কি নতুন করে আবেদন করতে হবে? মন্ত্রী বলেন, ‘পুনরায় আবেদনের কোনো প্রয়োজন নেই। যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদের নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার হবে প্রকল্পের টাকা। আর যাঁরা পাননি, আমরা খুব শীঘ্রই তাঁদের জন্য একটি পোর্টাল শুরু করতে চলেছি। সেখানে তাঁরা আবেদন করতে পারবেন।’ অগ্নিমিত্রা আরও জানান, যাঁরা ইতিমধ্যে সিএএ’র মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরাও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ পাবেন। যাঁরা ভোটাধিকার ফেরাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও পাবেন এই আর্থিক সহায়তা। বর্তমানে রাজ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬১ লক্ষ। তাঁরা প্রত্যেকে জুন মাস থেকে তিন হাজার টাকা করে পেতে চলেছেন। এর জন্য প্রতি মাসে রাজ্যের প্রায় আট থেকে দশ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে কোষাগার থেকে। তাই এখন থেকেই অর্থদপ্তর হিসাব কষতে শুরু করেছে বলে খবর। শীঘ্রই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে রাজ্যের তরফে। দায়িত্বে রয়েছে রাজ্যের শিশু, নারী ও সমাজকল্যাণ দপ্তরই।