সব বৈঠক ভার্চুয়াল, খরচ কমাতে কেন্দ্রের পথে নির্দেশ রাজ্যেও
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে ব্যয়সংকোচ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথেই জোরকদমে হাঁটা শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির জন্যও জারি হয়ে গেল ব্যয়সংকোচ নির্দেশিকা। সোমবার কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, সরকারি ব্যাংক, এলআইসির মতো বিমা সংস্থা, কেন্দ্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বলা হয়েছে—সবরকম খরচ কমাতে হবে। ব্যয়সংকোচের পথে হাঁটা শুরু করেছে ডবল ইঞ্জিন পশ্চিমবঙ্গও। মুখ্যসচিবের কার্যালয়ের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের সব সরকারি দপ্তরের খরচ কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভার্চুয়াল বৈঠক, ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুযোগ তৈরি এবং কাগজের ব্যবহার কমাতে ‘ই-অফিস’ ব্যবহারে জোর দেওয়ারও ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের কারপুল বা একই গাড়িতে একাধিক কর্মী যাতায়াত, গণপরিবহণ এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে রাজ্য। জানানো হয়েছে, সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্যও উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার এবং ‘স্বদেশি’ উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।
এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অব ফিনান্সিয়াল সার্ভিস রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত তাবৎ বিমা সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সার্কুলার জারি করে বলেছে, বিদেশ সফর তো বটেই, দেশের মধ্যেও যখন তখন সফর চলবে না। রাজ্যে রাজ্যে মিটিং ডাকা কমাতে হবে। প্রয়োজনে একেবারেই বন্ধ থাকবে। কোনো বিশেষ আপৎকালীন প্রয়োজন ছাড়া সব বৈঠক যেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই করা হয়। অর্থাৎ, ভার্চুয়াল। দপ্তরের যত গাড়িই থাকুক, ব্যবহার করতে হবে ইলেকট্রিক কার। পেট্রল-ডিজেল গাড়ি আর ভাড়াও নেওয়া যাবে না। ভাড়ার প্রসঙ্গ কেন? কারণ, এখনই নতুন গাড়ি কেনায় মত নেই মন্ত্রকের। এখানেই শেষ নয়, এইসব সরকারি সংস্থার সর্বোচ্চ কর্তাদেরও বলা হয়েছে—বিদেশ সফর একেবারেই সীমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনুন। যদি অত্যন্ত প্রয়োজন হয়, তবেই বিদেশ সফর। তবে তার কারণ দর্শিয়ে বিস্তারিত নথিপত্র ও নোট সহ ব্যাখ্যা দিতে হবে আধিকারিককে। ফিনান্সিয়াল সার্ভিস যদি মনে করে ওই ব্যাখ্যা যুক্তিসঙ্গত, তাহলেই একমাত্র অনুমোদিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সাত দফা নির্দেশিকা। প্রশ্ন তুলে দিয়েছে কিন্তু সেটাই। দেশের আর্থিক হাল ঠিক আছে তো? ভারত কি পেট্রল-ডিজেল-গ্যাসের মহা সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? এক বছর সোনা কিনতেই বা বারণ করছেন কেন প্রধানমন্ত্রী? সাধারণ মানুষকে বুঝেশুনে কেনাকাটি করতে বলা শুধু নয়, সরকারি সংস্থাগুলির চেয়ারর্পাসন, এমডি, ডিরেক্টর, এমনকী ব্যাংক ম্যানেজারের মতো পদাধিকারীদেরও প্রবল ব্যয়সংকোচের নির্দেশিকার আওতায় এনে ফেলায় উদ্বেগ বাড়ছে। কংগ্রেস সহ বিরোধীরা প্রশ্ন করছে, ভারতের আর্থিক পরিস্থিতি কেমন? গোপনীয়তা ছেড়ে এবার স্পষ্ট দেশবাসীকে তা জানানো সরকারের উচিত। কারণ টাকার বিপজ্জনক পতন অব্যাহত। চতুর্দিকে আতঙ্ক—এক ডলারের দাম এবার ১০০ টাকা স্পর্শ করতে চলেছে শীঘ্রই। পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সর্বদলীয় বৈঠকের দাবিও করছে বিরোধীরা।