নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে বারবার মাথাচাড়া দিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। কখনও শিক্ষক নিয়োগ, কখনও রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম হয়েছে বাংলা। এসব কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করতে এবার কমিশন গঠন করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সোমবার মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত। কমিশনের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে। অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার কে জয়রামনকে করা হয়েছে মেম্বার সেক্রেটারি। আরও একটি কমিশন গঠিত হয়েছে—বিগত বছরগুলিতে নাবালিকা ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের সাজা সুনিশ্চিত করতে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় তার চেয়ারপার্সন। এখানে মেম্বার সেক্রেটারি করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীর এডিজি দময়ন্তী সেনকে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কেবলমাত্র দোষীদের শাস্তি দেওয়াই এই দু’টি কমিশনের উদ্দেশ্য নয়। অন্যতম লক্ষ্য হল, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে লুটপাট হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধার। তাঁর কথায়, ‘কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পে যে দুর্নীতি হয়েছে, উম-পুনের টাকা নিয়ে যে অনিয়ম হয়েছে, মিড ডে মিল, আবাস যোজনা, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত, মনরেগাতে যে দুর্নীতি হয়েছে—সবকিছুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলায় যেভাবে সন্দেশখালি, হাঁসখালি, ময়নাগুড়ি থেকে শুরু করে কামদুনি, পার্ক স্ট্রিটে নারী নির্যাতন হয়েছে, রামপুরহাটে তফসিলি উপজাতির শিশুকন্যার উপর যে অত্যাচার হয়েছে, বগটুইতে যেভাবে সংখ্যালঘু মুসলিম মহিলাদের পোড়ানো হয়েছে, ২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসা—সবকিছুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।’
১ জুন থেকে দু’টি কমিশন কাজ শুরু করবে। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শুরু হবে ‘অ্যাকশন’। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দু’জন মেম্বার সেক্রেটারি থানাস্তরে পৌঁছে জনশুনানির মাধ্যমে বয়ান রেকর্ড করবেন। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পুলিশের ভূমিকাও। বিগত কয়েক বছরে সিন্ডিকেট, কাটমানি এবং তোলাবাজির একাধিক অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়নি বলে দাবি। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন করে এমন কতগুলি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রত্যেক পুলিশ সুপার এবং কমিশনারকে মঙ্গলবার ৪টের মধ্যে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত ৪৫৮টি মামলা চালু হয়েছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ে গেলেও নতুন করে চালু করা হয়েছে ৫৯টি মামলা।