• বেতন কমিশনে সায়, ডিএ ঝুলেই, মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর
    বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংকল্পপত্রের অন্যতম ঘোষণা। সেই মতো সরকারে আসার ১০ দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠনের ঘোষণা করে দিল পশ্চিমবঙ্গের ডবল ইঞ্জিন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত হল নতুন বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত। তবে যাবতীয় আশায় জল ঢেলে মহার্ঘভাতা বা ডিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলেই থাকল। আর তাই বেতন কমিশনের ঘোষণা সত্ত্বেও কার্যত হতাশ কর্মচারী মহল। যদিও রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হলেও, আগামী দিনে বকেয়া ডিএ ইস্যুতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

    কেন্দ্রীয় হারে ডিএ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। পূর্বতন সরকার সেই পথে না হাঁটায় কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য কর্মীদের ফারাক বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই। তার থেকে জন্ম নিয়েছিল বিপুল ক্ষোভ। তার রেশ পৌঁছায় আদালতের দোরগোড়াতেও। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে কর্মীরা জয়ী হলেও, শেষ পর্যন্ত পূর্বতন সরকার তাঁদের প্রাপ্য ডিএ’র ব্যবস্থা করে যেতে পারেনি। ফলে বাংলায় পরিবর্তনে বড়ো ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল মহার্ঘভাতা। ফলে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন সরকারি কর্মীরা। সোমবারের বৈঠকে ডিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তাই সবার নজরও ছিল এদিন নবান্নে। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং বিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি ক্ষেত্রের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশনের গঠনের ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রিসভা।’ তবে ডিএ’র বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ওই বিষয়টি আজকের বৈঠকের এজেন্ডায় ছিল না।’ 

    তৃণমূল সরকার তাঁদের শেষ অন্তর্বর্তী বাজেটে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু, সেই সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। আদালতের নির্দেশ মেনে পূর্বতন সরকার বকেয়া ডিএ মেটানোর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মোট বকেয়া ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়ার একাংশ, ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ডিএ মিটিয়েছে পূর্বতন সরকার। ফলে এখনও বকেয়া পাহাড়প্রমাণ। আবার, শেষ বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করলেও তার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে মূল মামলকারী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘আমরা চূড়ান্ত হতাশ। ভেবেছিলাম এবার সত্যিই কিছু একটা হবে। বকেয়া ডিএ নিয়ে তো কিছু হলই না। কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ’র ফারাক এখনও ৪২ শতাংশ।’ 

    যদিও সরকারি কর্মচারী পরিষদের তরফে ডিএ মামলার পিটিশনার সন্দীপ সরকার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারকে আরও একটু সময় দেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘অবশ্যই আমরা আজকের দিনে অনেক কিছু আশা করেছিলাম। তবে এই সামান্য কয়েকদিনের মধ্যে হয়তো ডিএ ঘোষণা সম্ভব হয়নি। আমাদের আরো কিছুটা সময় দিতে হবে।’ 

    জাতীয়তাবাদী পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা মনোজ চক্রবর্তী বলেছেন, ‘আশা করব আজ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জনসভায় ঘোষিত সপ্তম বেতন কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।’ ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভায় ঘোষিত চার শতাংশ মহার্ঘভাতা প্রদানের আদেশনামা প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)