অশোকনগরে পুলিশকে হেনস্তা সহ নানা অভিযোগে ধৃত ২ তৃণমূল নেতা
বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া সহ পুরানো একাধিক অভিযোগে তৃণমূলের দুই দাপুটে নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতরা হল মনি গাজি ও শেখ ইনজামুল ওরফে রনি। সোমবার ধৃত রনিকে বারাসত আদালতে তোলা হলে দু’দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। মঙ্গলবার মনিকে তোলা হবে বারাসত আদালতে।
অশোকনগর বিধানসভার অধীনে গুমা ২ পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান জেসমিন গাজির স্বামী হলেন মনি গাজি। মনি এলাকার দাপুটে নেতা। অভিযোগ, প্রধানকে সামনে রেখে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াত মনি। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত তোলাবাজি করত সে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় দিনের পর দিন অশোকনগর, গুমা এলাকায় তোলাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন মনি। টাকা দিতে না পারলে মনির রোষানলে পড়তে হত। তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলত না। তোলাবাজি ছাড়াও শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রাজ্যে পালাবদল হতেই পুলিশ পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। সোমবার দুপুরে তোলাবাজিসহ শ্লীলতাহানির অভিযোগে মনিকে গ্রেপ্তার করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতকে তোলা হবে বারাসত আদালতে।
অন্যদিকে, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, হেনস্তা সহ হামলার অভিযোগে আরও এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। রবিবার রাতে অশোকনগরের বড়ো বামুনিয়া থেকে তৃণমূলের শেখ ইনজামুল ওরফে রনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতকে সোমবার বারাসত আদালতে তোলা হলে দুদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অশোকনগরে একটি গণ্ডগোল নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের কাজে বাধা দেন হাবড়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শেখ ইনজামুল। থানায় অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। রাজ্যে পালাবদল হতে রবিবার রাতে রনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তৃণমূলের এই দুই নেতা গ্রেপ্তার হওয়া প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটেছেন নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে অশোকনগরের বিজেপি নেতা বাপি মিস্ত্রি বলেন, এখন অনেক বাকি। এই তো সবে শুরু হল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, শাসন চলবে প্রশাসনের। তাই, তৃণমূলের মস্তানরা গ্রেপ্তার হচ্ছে।