• কান ধরে ভুল স্বীকার প্রাক্তন কাউন্সিলারের! বরানগরের ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
    বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় মদত দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই আক্রোশের ‘বদলা’ দেখল বরানগর। বিজেপি নেতৃত্ব বারে বারে কর্মী-সমর্থকদের সংযত থাকতে বললেও নীচুতলায় সেই নির্দেশকে থোড়াই কেয়ার! তৃণমূলের এক নেতাকে বাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে পরিবারের সামনেই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কান ধরে ভুল স্বীকারও করানো হয় তাঁকে দিয়ে। বিজেপি কর্মীরা সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় বরানগরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত তৃণমূল নেতার নাম বাসবচন্দ্র ঘোষ। তিনি প্রাক্তন কাউন্সিলার। বাসববাবুর অভিযোগ, এত বছর ধরে রাজনীতি ও ক্লাব সংগঠন করছি। কিন্তু এত অপমানিত কখনও হতে হয়নি। গায়ের জোরে ওরা যা ইচ্ছা আমাকে দিয়ে করিয়ে নিল। বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। 

    বরানগর পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের যাদবচন্দ্র ঘোষ লেনে থাকেন বাসবচন্দ্র ঘোষ। তিনি এই ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার তথা সিঁথির বন্ধুদল স্পোর্টিং ক্লাবের সম্পাদক। এই ক্লাবের দুর্গাপুজোর সঙ্গে তিনি ৩৩ বছর যুক্ত। রবিবার বিকাল ৪টে নাগাদ তিনি বাড়িতে ছিলেন। সেই সময় স্ত্রী, পুত্র এবং বউমাও ছিলেন বাড়িতে। অভিযোগ, প্রায় ৫০ জন বিজেপি নেতা-কর্মী তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়। এরপর অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় বাসববাবু মদত দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে বিজেপির কর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি কর্মীদের পোস্ট করা ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি কর্মীরা ভুল স্বীকারের বয়ান বেঁধে দেন তাঁকে। প্রথমে বাসববাবু হাতজোড় করে ভুল স্বীকার করেন। কিন্তু তাতে ‘জ্বালা’ মেটেনি বিজেপি কর্মীদের। তখন তাঁকে কান ধরে ভুল স্বীকার করতে বলা হয়। যদিও ‘বর্তমান’ এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি।

    বরানগরে রাজনৈতিক হিংসা রুখতে, দখল হওয়া পার্টি অফিস ফেরাতে চরকিপাক খাচ্ছেন বিধায়ক সজল ঘোষ। একাধিক জায়গায় তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পার্টি অফিসের চাবি খুলে দিয়েছেন। পাশাপাশি কর্মীদের সংযত আচরণের বার্তা দিয়েছেন। ২০২১ সালে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা বা তাতে মদত দেওয়ার অভিযোগ থাকলে বিজেপির রাজ্য নেতারা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে বলেছিলেন। বাসববাবু বলেন, মিথ্যা অভিযোগ এনে জোর করে তা স্বীকার করতে বাধ্য করানো হয়েছে। কান ধরতে হয়েছে। সেই ভিডিয়ো ওরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে। আমার সামাজিক সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে ওরা।

    বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলার সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ২০২১ সালের অত্যাচারের ক্ষত এখনও কর্মীদের মধ্যে রয়েছে। তবে আমরা দলের অনুগত সৈনিক। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা। এক্ষেত্রে কী হয়েছে, খোঁজ নিয়ে বলতে পারব। 
  • Link to this news (বর্তমান)