• পাল যুগের মূর্তি-প্রাচীন মুদ্রা-মুখোশ-পুতুল-বাদ্যযন্ত্র-কাঠের ব্লক! বীরশিবপুরে সংগ্রহশালা দেখতে ভিড় জমাচ্ছে মানুষ
    বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: চৈনিক প্যাপিরাস। তিব্বতি থাংকা। পাল যুগের মূর্তি। প্রাচীন লন্ঠন। পুরনো কাঠের ব্লক। মুখোশ। পুতুল। বাদ্যযন্ত্র। প্রাচীন মুদ্রা। হারিয়ে যাওয়া টাকা। উলুবেড়িয়া বীরশিবপুরে একটি বাড়িতে রয়েছে এই জিনিসপত্রগুলি। বাড়িটি শুধু আর একটি বাসস্থান নয়, ঐতিহাসিক সামগ্রীর সম্ভারের জন্য সেটি প্রদর্শশালা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।

    সে বাড়ির বাসিন্দা তপন সেন প্রচীন জিনিসপত্র সংগ্রহ করে সংগ্রহশালাটি তৈরি করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসেন। তপনবাবু এই সংগ্রহশালার নাম রেখেছেন ‘বীরশিবপুর লোকশিল্প মিউজিয়াম’

    তপনবাবুর ঘুরে বেড়ানোর নেশা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরেছেন। গিয়েছেন বিদেশেও। ঘুরে বেড়ানোর ফাঁকে সংগ্রহ করতেন দুর্মূল্য জিনিসপত্র। বাড়ি আনতেন। রাখতেন যত্ন করে। সেই সব সামগ্রী দিয়েই বাড়িতে তৈরি করেছেন ঐতিহাসিক সংগ্রহশালাটি। এছাড়া গত কয়েকবছর ধরে তিনি ১৮ মে বিশ্ব মিউজিয়াম দিবস পালন করছেন। সোমবার মিউজিয়াম দিবসে তিনি এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। বহু অতিথি এসেছিলেন অনুষ্ঠানে। 

    তপনবাবুর দোতলা বাড়ির উপরের অংশের বেশিরভাগ জায়গাজুড়ে তৈরি সংগ্রহশালাটি। লোকশিল্প গবেষক তপন সেন প্রায় ৫০ রকমের প্রাচীন সামগ্রী রেখেছেন তাঁর মিউজিয়ামে। অতিথিরা এলে নিদর্শনগুলি নিজেই ঘুরিয়ে দেখান। সেগুলির সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। জানালেন, তাঁর মামা ইন্ডিয়াম মিউজিয়ামের আর্কিওলজি বিভাগের কিউরেটর ছিলেন। তাঁর জন্যই প্রাচীন জিনিস নিয়ে আগ্রহ। এছাড়া দেশ-বিদেশে ঘোরার সৌজন্যে প্রাচীন সামগ্রী সংগ্রহ হত। এরপর সেসবের সংখ্যা বাড়ার পর বাড়িতে সংগ্রহশালা করার পরিকল্পনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গার মানুষ এবং স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা দেখতে আসেন। মিউজিয়ামে রাকা অনেক জিনিসের অজানা তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরি। অতিথিরা এ কারণে আসার পর খুশি হন।’  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)