নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোর্টে স্বস্তি পেলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তবে তাঁর প্রশাসনিক কার্যালয়ের দরজায় ‘কাটমানি’ পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। রক্ষা কবজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ ছিল, বেশ কয়েকটি মিথ্যে এফআইআর দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলায় সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী ২৬ মে পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে, সবরকম সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। যদিও তদন্তের উপর কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। যে ক’টি মামলা ইতিমধ্যে দায়ের হয়েছে শুধুমাত্র সেই মামলাগুলিতে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে না পুলিশ। তবে, নির্বাচন কমিশনের জারি করা গাইডলাইন মেনে চলতে হবে জাহাঙ্গিরকে। ভোটার বা অন্য কাউকে হুমকি দিতে পারবেন না তিনি। বিচারপতি ভট্টাচার্যের নির্দেশে বলেছেন, নির্বাচন একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মামলাকারিকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। ২৬ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এদিকে, জাহাঙ্গিরের অফিসে তোলাবাজির পোস্টার পড়ল। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে আলিপুরে জেলা পরিষদে রয়েছে তাঁর অফিস। সোমবার সকালে সেই বন্ধ অফিসের দরজায় পোস্টারগুলি মারা হয়েছে। ঠিকাদারদের তরফ থেকে এই কাজ হয়েছে বলে পোস্টারের নীচে লেখা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা পরিষদ জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পোস্টারে লেখা রয়েছে, জাহাঙ্গিরের আপ্ত সহায়কের মাধ্যমে কাটমানি না দিলে টেন্ডার প্রক্রিয়া অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এইভাবে দিনের পর দিন চলেছে। প্রত্যেকের থেকেই বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে এই ঘটনা স্বভাবতই আরও চাপে ফেলবে ওই তৃণমূল নেতাকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কাটমানি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ঠিকাদারদের দাবি করা এই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে পারলে আরও বড়ো বিপদে পড়তে পারেন জাহাঙ্গির, এমনই মনে করছেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা।