• আট বাংলাদেশি ধৃত, আশ্রয়দাতাও গ্রেপ্তার
    বর্তমান | ১৯ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রবিবার রাতে আট বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করল নিমতা থানার পুলিশ। এই বাংলাদেশিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের যশোর ও সাতক্ষীরা এলাকায়। তাঁরা বেশ কয়েক বছর আগে নিমতায় এসেছিল। এরপর এদেশের আধার কার্ড সহ নানা সামগ্রী তৈরি করেছিল। ধৃতদের এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। চারজনকে বিচারক আটদিনের পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিন মহিলা সহ বাকিদের জন্য জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

    ধৃতদের নাম সুমন গাইন, বাহারুল মণ্ডল, আব্দুল রহমান সর্দার, রিয়াজ মণ্ডল, ইলিশ সর্দার, জাহারা বিবি, আনোয়ারা বিবি, সুমি বিবি ও শহিদুল ইসলাম। শহিদুল ইসলামের বাড়ি নিমতায়। ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আট বাংলাদেশির বাড়ি যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে নিমতা থানার পুলিশ টহলদারি চালানোর সময় গোলবাগান বাজার এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে সুমন গাইন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তিনি বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্বীকার করেন। পরে বেলঘরিয়ার নন্দননগর আমতলা এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর নামে আধার কার্ড, প্যানকার্ড, ই-রেশন কার্ড, জন্ম শংসাপত্র, বেসরকারি ব্যাঙ্কের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড-সহ একাধিক নথি উদ্ধার করা হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে নগদ ২২ হাজার ৯১০ টাকা। জেরায় সুমন গাইন আরও দুই বাংলাদেশি বাহারুল মণ্ডল ও আব্দুল রহমান সর্দারের নাম জানান। এরপর নিমতার ফতুল্লাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের সবার কাছ থেকে আধার, প্যান কার্ড সহ বিভিন্ন ভারতীয় নথি পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতরা এখানে বাংলাদেশি ভুয়ো পরিচয়পত্র দেওয়ার সিন্ডিকেট খুলে বসেছিল। বৈধ নথি ছাড়াই ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের অভিযোগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। যদিও ধৃতদের দাবি, তারা ভারতেরই নাগরিক। এতদিন ভোটও দিয়েছেন। চক্রান্ত করে তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)