বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলে রয়েছে একাধিক মৌলিক জীবিকা। খাট তৈরি তার অন্যতম। চোখের সামনে খাট তৈরি করে চলছে বিক্রি। কাঠের তৈরি চার পায়ার খাটিয়া। প্রতিটি পরিবারে একসময় কদর ছিল। তবে বর্তমান দিনে সেই খাটিয়া আর সেভাবে দেখা যায় না। গরম পড়তেই সেই খাটিয়ার চাহিদা বেড়ে হয় দ্বিগুণ। ৪০০ টাকার খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। রানিবাঁধের ঘোড়াধরা হাটে দূরদূরান্ত থেকে বিক্রেতারা কাঠের খাটিয়ার পসরা সাজিয়ে বসেন। বিক্রেতারা জানান, এসময় বিক্রিও হচ্ছে ভাল।
দূরদূরান্ত থেকে নিয়ে আসেন খাটিয়ার কাঠামো। বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি, পুরুলিয়ার মানবাজার থেকে খাটিয়া বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানান, গ্রীষ্মকালেই মূলত খাটিয়া বিক্রি হয়। এ সময় প্রচুর চাহিদা থাকে। দামও বেশ ভাল পাওয়া যায়। এক একটি খাটিয়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আরেক বিক্রেতা জানান যে তাঁরা নিজেরাই বাড়িতে খাটিয়ার কাঠামো তৈরি করেন। তারপর গরমের সময় বিভিন্ন হাটে বাজারে সেটা বিক্রি করে বেড়ান।
মাটির বাড়ি, কাঠের খাট! একটি বড় উঠোন। এটাই হচ্ছে গরমের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলের একমাত্র দাওয়াই। এই কারণে এই খাটগুলি একটি ঐতিহ্য বহন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সেই ঐতিহ্যের সাক্ষী ঘোড়াধরা হাট। কাঠের খাট তৈরি হচ্ছে এবং বিক্রি হচ্ছে নিমেষে। শুধু গরমে আরাম নয়, গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই খাটিয়া। সন্ধ্যা নামলে উঠোনে বসে গল্প, দুপুরে বিশ্রাম কিংবা অতিথি আপ্যায়ন, সবক্ষেত্রেই এই খাটিয়ার ব্যবহার আজও চোখে পড়ে। আধুনিকতার ভিড়েও জঙ্গলমহলের বহু পরিবার এখনও ধরে রেখেছে এই পুরনো ঐতিহ্যকে।