• ‘এদের কামড়ের বাড়বাড়ন্ত উপেক্ষা করা যায় না...’, রেবিস আক্রান্ত কুকুরকে মেরে ফেলার অনুমতি-সহ কী কী নির্দেশ শীর্ষ আদালতের?
    এই সময় | ১৯ মে ২০২৬
  • রাস্তা ও পাবলিক প্লেস থেকে পথকুকুর সরানোর আগের নির্দেশ সংশোধন সংক্রান্ত সব আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৫-এর নভেম্বরে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, স্কুল, হাসপাতাল, আদালত, সরকারি অফিস, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন-সহ জনবহুল স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পথকুকুরদের সরাতে হবে। সেই নির্দেশের কোনও পরিবর্তন করা হবে না বলে মঙ্গলবার জানিয়ে দেয় বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। একইসঙ্গে মঙ্গলবার জলাতঙ্কে সংক্রমিত এবং গুরুতর অসুস্থ কুকুরকে নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিদেশ দিয়েছে আদালত। মানুষের জন্য বিপজ্জনক কুকুরকে মেরে ফেলার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    রাস্তা থেকে পথকুকুরকে সরানোর আদেশ সংশোধনের দাবি তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কুকুরপ্রেমীরা। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, তারা আগের জারি করা নির্দেশ সংশোধন করতে রাজি নয়। একই সঙ্গে অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (AWBI)-এর জারি করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP)-কে চ্যালেঞ্জ করা আবেদনও খারিজ করে দেয়। এ দিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ (Bench of Justice Vikram Nath, Justice Sandeep Mehta and Justice NV Anjaria) কুকুরপ্রেমীদের আবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। জনসমাগমস্থলে পথকুকুরের উপস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতিরা। তাঁদের মতে, যে ভাবে কুকুরের হামলার ঘটনা সামনে এসেছে, বিশেষ করে শিশুদের যে ভাবে আক্রমণ করছে তা উপেক্ষা করা যায় না। আদালত বলেছে, ‘আমরা আমাদের ৭ নভেম্বরের রায় প্রত্যাহারের আবেদনগুলো বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করে সব আবেদন খারিজ করে দিলাম।’ আবেদনকারীরা অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার কার্যপ্রণালীতে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখাতে পারেননি।

    শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, পথকুকুরের সমস্যা এখন শুধু পশুকল্যাণের বিষয় নয়, এটি ‘গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার সমস্যা’। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কুকুরের কামড় এবং রেবিসে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালতের মতে, ‘মর্যাদার সঙ্গে মানুষের জীবনযাপনের অধিকারের মধ্যে কুকুরের আক্রমণ বা হুমকির ভয় ছাড়াই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।’

    এ দিন এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জলাতঙ্ক এবং গুরুতর অসুস্থ কুকুর, যে গুলো মানুষের জীবনের জন্য বিপজ্জনক, তাদের প্রয়োজন পড়লে মেরে ফেলার অনুমতি দিয়েছে। আদালত বলেছে, ‘প্রাণীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধিবদ্ধ প্রোটোকল অনুযায়ী দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত, জলাতঙ্কে সংক্রমিত এবং মানুষের জন্য বিপজ্জনক কুকুরদের প্রয়োজনে মেরে ফেলার ব্যবস্থা নিতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।’

    শুনানির সময়ে বিচারপতিরা বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও পুরসভার ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বহু রাজ্য এখনও পর্যাপ্ত ডগ শেল্টার, স্টেরিলাইজ়েশন সেন্টার বা কুকুর ধরার পরিকাঠামো তৈরি করতে পারেনি। বিচারপতিরা বলেন, ‘এই সমস্যাকে এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে প্রতি বছর পথকুকুরের সংখ্যা আরও ১০-১৫ শতাংশ হারে বাড়বে।’

    আদালতে জানানো হয়, দেশের বহু রাজ্যে পর্যাপ্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র নেই। AWBI-র আইনজীবী জানান, বর্তমানে মাত্র ৭৬টি স্বীকৃত কেন্দ্র রয়েছে এবং ২৫০-র বেশি আবেদন এখনও ঝুলে আছে। তখন আদালত আবেদনগুলি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

    এই মামলার সূত্রপাত ২০২৫ সালে। দিল্লি-NCR এলাকায় পথকুকুরের আক্রমণ এবং মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (suo motu) মামলা শুরু করে। সেই সময় তৎকালীন বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং তৎকালীন বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ দিল্লি ও NCR জুড়ে জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে শেল্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরে সেই মামলার নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানান পশুপ্রেমীরা।

    পশুপ্রেমী সংগঠন এবং কিছু আবেদনকারী আদালতের নির্দেশের বিরোধিতা করে দাবি করেন, নির্বিচারে পথকুকুর সরানো অমানবিক। তাদের বক্তব্য ছিল, স্টেরিলাইজেশন ও টিকাকরণের পরে কুকুরদের একই এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তবে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জনসুরক্ষা এবং পশুকল্যাণ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আদালত নিয়ন্ত্রিত স্টেরিলাইজেশন, শেল্টার ব্যবস্থা, টিকাকরণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের উপর জোর দিয়েছে ।

  • Link to this news (এই সময়)