• ভাঙন থেকে বাঁচতে স্থায়ী ভাবে বাঁধানো হবে সুবর্ণরেখার পাড়, আশ্বাস দিলীপের
    এই সময় | ১৯ মে ২০২৬
  • এই সময়, গোপীবল্লভপুর: সে অনেক কাল আগের কথা। তখন ক্লাবে বসে আড্ডা দিতে দেখা যেত প্রবীণ থেকে যুবকদের। খেলার মাঠে খেলত ছোটরা। গরম কালে আমবাগানে মিলত কাচা–পাকা আম। তা পাড়তে গ্রামের মেয়ে–বৌরা হাজির হতেন। কিন্তু সে সব এখন অতীত। এখন যে দিকেই তাকান না কেন মিলবে শুধু জলের দেখা। দিনে দিনে সুবর্ণরেখা গ্রাস করেছে সব। বর্ষা আসলেই ভয়ে ভয়ে থাকেন গোপীবল্লভপুর–২ নম্বর ব্লকের কুলিয়ানা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চা গ্রামের মানুষ। ভাঙনের জেরে এ বার কার জমি, কার বাড়ি নদী গিলে ফেলবে, তা কেউ জানেন না। তাই এই গ্রামের মানুষ চিন্তায়। এখানকার মানুষদের অনেক দিনের দাবি, বাঁধিয়ে দেওয়া হোক সুবর্ণরেখা নদীর পাড়। কিন্তু স্থানীদের অভিযোগ, এতদিনে প্রশাসনের অনেককে এ কথা জানালেও স্থায়ী ভাবে কোনও কাজ হয়নি। এ বার গ্রামে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দেখা মিলতেই এলাকার মানুষ সেই পাড় বাঁধানোর কথা তোলেন। দিলীপ বলেন, ‘এ বার এই এলাকার সুবর্ণরেখার নদীর পাড় বাঁধিয়ে দেওয়া হবে।’

    এলাকায় রয়েছে একটি অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র। তার অবস্থাও খারাপ। সেখানেও ছেলে–মেয়েদের পাঠাতে অভিভাবকেরা ভয় পান। সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রও সংস্কারের কথা জানানো হয় দিলীপকে। রবিবার দিলীপ ঘোষ ঝাড়গ্রামে গিয়েছিলেন। তখনই মানুষ তাঁকে সামনে পেয়ে তাঁদের দাবিগুলি জানান। গতবারের বর্ষা শুরুর আগে মালঞ্চা গ্রাম থেকে সুবর্ণরেখা নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার। লাগাতার বৃষ্টি এবং ঝাড়খণ্ডের গালুডি জলাধার থেকে দফায় দফায় কয়েক লক্ষ কিউসেক জল সুবর্ণরেখায় ছাড়ার ফলে উত্তাল হয়ে ওঠে নদী। জলের প্রবল স্রোতে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। মালঞ্চ গ্রামের আমের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ এবং গ্রামের ক্লাব ঘর তলিয়ে যায় নদীতে। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রতিদিন গড়ে পনেরো থেকে কুড়ি মিটার পাড় তলিয়ে যায় নদীতে। তৎকালীন সেচ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদীপাড় বাঁধানোর আশ্বাস দেন গ্রামবাসীদের। তবে স্থায়ী ভাবে পাড় বাঁধানো হয়নি। বড় বড় কাঠের বল্লি নদীর পাড়ে গেঁথে তার উপরে বালির বস্তা দিয়ে পাড় মেরামত করা হয়েছিল। মালঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা গোবিন্দ রানা বলেন, ‘বালির বস্তাগুলি ফেটে বালি বেরিয়ে গিয়েছে। বর্ষায় নদীর জল বাড়লেই সব ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে। নদীর পাড়ে আমাদের বাড়ি রয়েছে। গত বছর বর্ষা শুরুর আগে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে নদী ছিল। নদী এখন বাড়ির সামনে দিয়ে বইছে। নতুন সরকারের কাছে একটাই দাবি, বর্ষা শুরুর আগে স্থায়ী পাড় বাঁধানো হোক। তা না হলে আমাদের ভিটেমাটি আর কিছুই থাকবে না।’

    মালঞ্চা গ্রাম হয়ে নদীর পাড় বরাবর কংক্রিটের রাস্তা গিয়েছে খড়িপাড়িয়া ও হাতিপাতা গ্রাম পর্যন্ত। সুবর্ণরেখা নদীর ভাঙন কংক্রিটের রাস্তা পর্যন্ত এসে থেমে ছিল গত বছর। গ্রামের বাসিন্দা সায়ন প্রতিহার বলেন, ‘কয়েক দিন আগের বৃষ্টিতে কংক্রিটের রাস্তায় ধস নেমে বালির বস্তা পড়ে গিয়েছে। কংক্রিটের রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। শুধু হেঁটে যাওয়া যাচ্ছে আর মোটরবাইক চলছে।’ কুলিয়ানা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলিয়ানা গ্রামে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে বাড়ি রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পরে রবিবার দিলীপ গ্রামে ফিরতেই তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছিলেন গ্রামবাসীরা। সেখানে দিলীপকে কাছে পেয়ে সুবর্ণরেখা নদীর পাড় ভাঙনের বিষয়ে জানান তাঁরা। দিলীপ বলেন, ‘গোপীবল্লভপুর এবং নয়াগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সুবর্ণরেখা নদী পাড়ের ভাঙন রয়েছে। সেই সমস্যার কথা অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন। ভাঙন রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে সব জায়গায় ভাঙনের প্রবণতা রয়েছে সেগুলিতে স্থায়ী ভাবে পাড় বাঁধানো হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)