আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তিন জনের গ্রেপ্তারি চেয়ে সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিতার মা, যিনি এখন পানিহাটির বিজেপি বিধায়কও। তালিকায় নির্মল ছাড়াও আছেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে। সেই সঞ্জীব এ বার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে, এই দাবিতে মঙ্গলবার হাইকোর্টে যান তিনি।
সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ওই নির্যাতিতার এলাকারই বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এ দিন সঞ্জীবের আইনজীবী বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিযোগ করেন, তাঁর মক্কেলকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ চান। তাঁর আরও অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পরে তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আদালত তাঁকে মামলা দায়ের করার অনুমতিও দেয়।
প্রসঙ্গত, আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনে নতুন করে তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন নির্যাতিতার মা। পাশাপাশি তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে শিয়ালদহ আদালতে গ্রেপ্তারির দাবি জানান।
নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে আরজি কর থেকে মেয়ের দেহ বের করে তড়িঘড়ি নিয়ে গিয়ে দাহ করে পরিকল্পিত ভাবে প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে। সেই মামলাতেই এ বার অব্যাহতি চেয়ে হাইকোর্টে সঞ্জীব।
সঞ্জীব নির্যাতিতার পাশের পাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় ‘কাকু’ বলেই পরিচিত তিনি। নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছিল পানিহাটি শ্মশানঘাটে। সেই নথিতে সঞ্জীবের সই ছিল বলেও দাবি। স্থানীয় সূত্রেই দাবি, এক সময়ে সিপিএমের কাউন্সিলার ছিলেন সঞ্জীব। তার পরে ভোটে হেরে বেশ কয়েক বছর ‘দলহীন’ ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।