আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত মঙ্গলবার আরজি কর মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। ঠিক তার এক সপ্তাহ পরে আজ, মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হল। তদন্ত চলাকালীন আরজি করের সেমিনার হল আগেই সিল করেছিল সিবিআই। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ অকুস্থল সিল করার নির্দেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বৃহস্পতিবার। আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের মামলায় কেন পুনরায় সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন, তাও বিবেচনা করবে হাই কোর্ট।
আরজি কর কাণ্ডের সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। বৃহস্পতিবার শুনানিতে দুই বিচারপতির বেঞ্চ সিবিআইকে প্রশ্ন করেন যে, আরজি কর হাসপাতালে অপরাধের ঘটনাস্থল সিল খোলা হয়েছে কি না? উত্তরে সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, সেমিনার হল সিল করা রয়েছে। শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন আরজি কর কাণ্ডে সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা।
আদালতের প্রশ্ন ছিল, সিবিআইয়ের মনে হয়নি তদন্তের স্বার্থে অন্য প্লেস সিল করা প্রয়োজন? অন্য কোনও জায়গা সিল করেছেন? উত্তরে সীমা জানান যে, অন্য কোনও জায়গা সিল করা হয়নি। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, সেমিনার হলের পাশেই সন্দীপ ঘোষের চেম্বার রয়েছে, সেটিকে সিল করা হয়নি। এরপরেই ডিভিশন বেঞ্চ সেটিকেও সিল করার নির্দেশ দিয়েছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দ্রুত ঘটনাস্থল সিল করুক সিবিআই।
এদিনের শুনানি শেষ হওয়ার আগে আদালত জানিয়েছে, আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের মামলায় কেন পুনরায় সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন তা বিবেচনা আগে করা হবে। অভয়ার পরিবারের তরফে যে ৩৮টি প্রশ্ন তুলে মামলা করা হয়েছে সেগুলির বিবেচনা করা হবে। বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ওই দিন সীমা পাহুজাকে এজলাসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। আসামি সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবারই এই মামলা থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়েছে বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। এর কারণ হিসেবে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা জানান, রাজ্য সরকার আরজি কর মামলার জন্য একটি জুডিশিয়াল কমিটি গঠন করেছে। তাই মামলার শোনার আপাতত কোনও প্রয়োজন নেই। বিচারপতি মান্থার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যে ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবে সেখানেই শুনানি হওয়া উচিত।
রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ক্ষমতায় ফিরলে আরজি কর কাণ্ডে পুনরায় সিবিআই তদন্ত শুরু করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রচারে একই কথা বলেছিলেন। ক্ষমতায় এসে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তিন আধিকারিক বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য। সোমবার মন্ত্রিসভার নতুন বৈঠকের পরে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের কমিশন গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সেই কমিটির চেয়ারপার্সন করা হয়েছে প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জি এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস দময়ন্তী সেনকে।