ফলতা পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে হঠাত্ ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। নিজেকে 'পুষ্পা' বলা জাহাঙ্গির এখন বলছেন, 'আমি চাইব, ফলতা শান্তিতে থাকুক, ভাল থাকুক।' যে দাপট ২৯ এপ্রিল বা তার আগে দেখা গিয়েছিল, আজ গলা একেবারে নরম। আর জাহাঙ্গিরের হঠাত্ এই সিদ্ধান্তকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বলছেন, 'ও তো পুষ্পা ছিল।'
জাহাঙ্গির খান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ
আগামী ২১ মে ফলতায় রিপোল হবে। ২৯ এপ্রিল ফলতায় ব্যাপক হারে রিগিং ধরা পড়ায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ ওঠে, ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের নির্দেশে ও পরিচালনায় রিগিং হয়েছিল। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাহাঙ্গির খান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিষেককে নকল করে প্যান্ট জামাও পরে এই জাহাঙ্গির।
জাহাঙ্গির খানকে তীব্র কটাক্ষ কুণাল ঘোষের
এহেন অভিষেক-ভক্তের ভোট থেকে সরে আসার প্রতিক্রিয়ায় কুণাল ঘোষ বললেন, 'শুনলাম, জাহাঙ্গির খান ভোটে লড়বেন না। প্রশ্ন হল, বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, ইডি, সব মিলিয়ে কোনও ভয়ের পরিবেশ ফলতায় তৈরি করা হয়নি তো? আর যদি ভয়ের পরিবেশ থাকেও, জাহাঙ্গির তো পুষ্পা ছিলেন। ঝুঁকে গা নেহি! তো ঝুঁকে গেল কেন? ও তো যখন হাঁটত, বস বস করে সবাই চিত্কার করত। নানা ভিডিওতে দেখেছি। ফলতা বিধানসভা আমাদের দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। তো এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই ঠিক মতো বলতে পারবেন, কেন জাহাঙ্গির খান সরে দাঁড়াল। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক।'
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো ফলতায় যাননি
ফলতায় প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন যাননি, এই প্রশ্নের উত্তরে কুণালের মন্তব্য, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো ফলতায় যাননি। এটা হয়তো দলের স্ট্র্যাটেজি। পার্টির কর্মীরা চেয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফলতায় যান। কিন্তু উনি যাননি। কেন যাননি, এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলতে পারবেন।'
আজ জাহাঙ্গির ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, 'আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব, ফলতা শান্তিতে থাকুক, ভাল থাকুক। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক। সোনার ফলতা হোক, এটাই আমার স্বপ্ন ছিল। আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি আগামী ২১ মে যে রিপোল আছে, সেই ভোট থেকে আমি নিজেকে সরিয়ে নিলাম। ফলতার উন্নয়নের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিলাম। ২৯ তারিখ নির্বাচনে ইভিএম-এ টেপ লাগানো বা কালি লাগানো, এই সব আমি করিনি। অনেকেই অনেক কথা বলছে। আমি এই সব কিছু করিনি। আমি সে দিন অফিস থেকেই ভোট চালনা করেছি। আমি ফলতার মানুষের সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করিনি।'