• দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, জেলায় জেলায় ঝড়েরও সম্ভাবনা, কবে থেকে?
    আজ তক | ১৯ মে ২০২৬
  • গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় নাজেহাল অবস্থা কলকাতাবাসীর। তীব্র দহন আর গুমোট গরমে হাঁসফাঁস করছে দক্ষিণবঙ্গবাসী। এরমাঝেই অবশেষে স্বস্তির খবর দিল আলিপুর হাওয়া অফিস। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার বিকেল বা সন্ধ্যার পর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের সব কটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।  কলকাতাতেও নামতে পারে স্বস্তির বৃষ্টি। কয়েকটি জেলায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। 

    হাওয়া অফিস যা জানাচ্ছে
    দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমে রয়েছে কালবৈশাখীর সতর্কতা। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ঝড় বৃষ্টি হতে পারে। তবে ঝড় বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া জারি থাকবে আগামী সাতদিন।

    দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি
    আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলায় ঘন্টায় ৫০–৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী  ঝড় আসতে পারে। এছাড়া পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।  আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম-সহ একাধিক জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা প্রবল। বুধবার বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়ায় আবারও ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি হলেও চলতি সপ্তাহে গরম ও অস্বস্তি আরও বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম দিকের কয়েকটি জেলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে। 

    উত্তরবঙ্গ নিয়ে পূর্বাভাস
    মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সঙ্গে থাকবে দমকা হাওয়া, যার বেগ ঘন্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার থাকবে। বুধবারও উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে একই ধরনের বৃষ্টি চলবে। তবে দমকা হাওয়ার গতি বেড়ে ৪০–৫০ কিলোমিটার হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত। দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত প্রায় সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

    কলকাতার আবহাওয়া
    মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতায় কখনও চড়া রোদ আবার কখনও মেঘলা আকাশ। সকাল থেকেই গুমোট গরমে নাজেহাল অবস্থা মানুষের। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বিকেলের পরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতায়। মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। শহরে দুপুরের পর থেকেই আবহাওয়ার ভোলবদল শুরু হবে। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে শহরের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির জেরে রাতের তাপমাত্রা কমে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি চলে আসতে পারে।

    রাজ্যে বর্ষা আসছে কবে?
    আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের সমস্ত এলাকায় বর্ষা এসেছে। ১৬ মে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পেরিয়ে আন্দামানের কিছুটা অংশে ঢুকেছিল। ১৮ মে সম্পূর্ণভাবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং আন্দামান সাগরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ঢুকে পড়েছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে মৌসুমী বায়ু আরও কয়েকটি অংশে বিস্তার লাভ করতে পারে বলে পূর্বাভাস। এবার সময়ের আগেই কেরলে ঢুকতে পারে বর্ষা। সময়ের ছ’দিন আগেই অর্থাৎ ২৬ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশের আগামবার্তা দিয়েছে মৌসম ভবন। তবে কেরল থেকে বর্ষা প্রবেশ করলেও বাংলায় কবে থেকে শুরু হবে বর্ষার স্পেল, এখনও কিছু জানায়নি মৌসম ভবন। সাধারণত, ৮ থেকে ১০ জুনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার ঢোকার কথা। কিন্তু অনেক সময়েই অবস্থা অনুকূল না হওয়ায় বর্ষার পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছতে দেরি হয়।
     
  • Link to this news (আজ তক)