সামাজিক চাপ ও মধ্যবিত্ত মানসিকতাই দায়ী, ‘ভুল হয়েছে’, মেয়ে তিশাকে হারিয়ে অনুতপ্ত বাবা
প্রতিদিন | ১৯ মে ২০২৬
বিয়ের ছ’মাসের মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে প্রাক্তন মিস পুণে তিশা শর্মার। মাস খানেক আগেই তিনি মায়ের কাছে কাতর অনুরোধ করেন, ভোপালের শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নয়ডার নিজের বাড়িতে ফিরতে চাই। এমনকী ঘরে ফেরার টিকটিও কেটে ফেলেছিলেন। এর পরেই ১২ মে শ্বশুরবাড়িতে তিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মঙ্গলবার প্রাক্তন মিস পুণের বাবা-মা আক্ষেপের স্বরে জানালেন, সমাজ কী বলবে, একথা ভেবেই মেয়ের মানেননি তাঁরা। বিরাট ‘ভুল হয়ে গিয়েছে।’
এদিন তিশার (Twisha Sharma) বাবা নবনীধি শর্মা বলেন, “ওঁর উপর একটানা নির্যাতন চলেছে। ভুল হয়ে গিয়েছে।” মেয়ের মৃত্যুশোকে কাতর মা রেখা শর্মাও। তিনি মঙ্গলবার বললেন, “কেন আরও আগে কাছে এলাম না, আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত।” চোখের জলে ভেসে আরও বলেন, “ওঁকে ওই জায়গা থেকে বের করে আনা উচিত ছিল আমাদের। ওই বাড়িতে রেখে আসা উচিত হয়নি।” নবনিধি শর্মা স্বীকার করেন, মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর বদলে মধ্যবিত্ত মানসিকতা ও সমাজিক চাপের কারণেই যে কোনও মূল্যে বিয়েটা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। এর জেরেই প্রতিভাবান মেয়েকে হারাতে হল। অন্যদিকে তিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের দাবি, তিশার মা-বাবা জোর করে মেয়েকে বিনোদন জগতে ঠেলে দিয়েছিল, ওকে দিয়ে পয়সা রোজগারের জন্য। পণের জন্য অত্যাচারের কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।
গত ১২ মে কাটারা হিলসের শ্বশুরবাড়িতে মৃত্যু হয় তিশার। স্বামী-শাশুড়ি আত্মহত্যার কথা বললেও মানতে নারাজ তরুণীর পরিবার। “এখানে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে।” মোবাইলে মাকে মেসেজ পাঠানোর পরদিন ভোপালে শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় মাস পাঁচেক আগে বিয়ে হওয়া তিশা শর্মার।
প্রথম বিবিএ, পরে এমবিএ করার পর মুম্বই এবং দিল্লির দু’টি সংস্থায় চাকরিও করেন তিশা। এর মধ্যেই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সাফল্য আসে। ‘মিস পুণে’ খেতাব পান তিনি। একটি তেলেগু ছবিতে অভিনয় করেন। যোগা শিখে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় শুরু করেছিলেন। এই সবের মধ্যেই ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপ সূত্রে তাঁর আলাপ হয় পেশায় আইনজীবী সম্রাট সিংয়ের সঙ্গে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁরা বিয়ে করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি।
তিশা শর্মার মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার কথা বলা হয়। ভোপাল এইমসের ময়নাতদন্তের রিপোর্টও তাই বলছে। যদিও তিশার বাবা নবনিধি শর্মার দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে অন্য প্রমাণের মিল নেই। পরিবারের বক্তব্য, প্রভাবশালী আইনজীবী ও বিচারপতির পরিবার নেপথ্যে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। নতুন করে দিল্লি এইমসে ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাড়ি ঘেরাও করে তিশার মৃত্যুর ন্যায় বিচার চায় পরিবার।
প্রাথমিকভাবে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করে স্বামী সম্রাট সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতার পরিবারের প্রভাবশালী দাবিকে প্রতিষ্ঠা দিয়ে ইতিমধ্যে আগাম জামিন পেয়ে গিয়েছে মা। তাঁদের গ্রেপ্তারির লক্ষ্যে পুরস্কার ঘোষণার কথা ভাবছে পুলিশ। ভোপালের পুলিশকর্তা রাজনীশ কাশ্য়প কৌলের বক্তব্য, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) সমস্ত প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ করছে।