তৃণমূল সরকারের পতনে স্বপ্নপূরণ! ১০ কিমি দণ্ডি কেটে মন্দিরে পুজো বিজেপি কর্মীর
প্রতিদিন | ১৯ মে ২০২৬
মানত করেছিলেন। মনের আশাও পূরণ হয়েছে। অবশেষে সংকল্পমতো প্রায় ১০ কিমি রাস্তা দীর্ঘ দণ্ডি কেটে মন্দিরে গিয়ে পুজো দিলেন সুন্দরবনের (Sundarbans) একনিষ্ঠ এক বিজেপি কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের বামচন্দ্রখালি পঞ্চায়েতের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল। তাঁর স্ট্রিট ফুডের দোকান রয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হতেই পয়লা বৈশাখে দলের একনিষ্ঠ কর্মী সুজিত বাড়ি থেকে দশ কিমি দূরে মোকামবেড়িয়ার বড়কাছারি শিবমন্দিরে গিয়ে যাতে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে, সেই মানত করেন। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন সুজিত ও তাঁর পরিবার-প্রতিবেশীরা। স্বপ্ন পূরণ হতেই আর বিলম্ব করেননি সুজিত। পরিবার, পরিজন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে নির্দিষ্ট সময় মেনে রবিবার রাত সাড়ে আটটার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ১০ কিমি পথ দণ্ডি কেটে সোমবার ভোর দুটো পঁয়তাল্লিশ মিনিটে বড়কাছারি মন্দিরে পৌঁছে যান।
সেখানে সকালে স্নান সেরে ১০৮ টি পদ্মফুলের মালা, ফলমূল, ডাব সহযোগে পুজো দিয়ে মানত শোধ করেন। সুজিত জানিয়েছেন, “১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত আমি। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে গ্রামসভায় কেউ প্রার্থী হতে পারছিলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের অসাধু লোকজনের জন্য। তখন আমার স্ত্রী টুম্পা মণ্ডল গ্রামসভায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয় আমাকে। বলা হয় দোকানপাট, বাড়িঘর ভাঙচুর করে দেওয়া হবে। সন্ত্রাস চালানো হবে। লাগাতার হুমকির জেরে জর্জরিত হয়ে যাই। অবশেষে আমার স্ত্রী প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে। সেখানে আমার ক্ষোভ ছিল। যা প্রকাশ করতে পারিনি। ২০২৬ নির্বাচনে হার্মাদদের রুখতে এবং বিজেপি যাতে ক্ষমতায় আসে সেকারণে বড়কাছারি মন্দিরে মানত করেছিলাম।”