চিকেনস নেকের ১২০ একর জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দিল শুভেন্দু সরকার, চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ
প্রতিদিন | ১৯ মে ২০২৬
দেশের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার প্রশ্নে ইতিমধ্যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। ক্ষমতার মসনদে বসেই সীমান্তে সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কাঁটাতার দিতে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এরমধ্যেই উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেকে’র (Chicken’s Neck) নিরাপত্তা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরের ১২০ একর জমি কেন্দ্রের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের। যা তৃণমূল সরকারের আমল থেকে আটকে ছিল বলে খবর। অবশেষে এহেন পদক্ষেপ দেশের সুরক্ষার জন্য ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলেই দাবি রাজনৈতিকমহলের।
চিকেনস নেক ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতকে দুর্বল করতে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নজরে রয়েছে শিলিগুড়ি করিডর। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক থাকে জঙ্গিদের। শুধু তাই নয়, চিন-বাংলাদেশের নজরে রয়েছে এই এলাকা। অনুপ্রবেশ বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এর ফলে ক্রমশ বদলাচ্ছে এলাকার জনবিন্যাস। এই অবস্থায় বাংলার ভোট প্রচারে এসে চিকেনস নেকের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য ছিল, টুকরে টুকরে গ্যাং চিকেনস নেক ভাঙার ছক কষছে। আর তা প্রশয় দিচ্ছে তৎকালীন তৃণমূল সরকার। বিজেপি ক্ষমতায় আসলেই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।
সেই মতো সরকারে বদল হতেই চিকেনস নেকের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ বিজেপি সরকারের। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যে সমস্ত জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি। শুধু জমি নয়, ইতিমধ্যে দেশের সুরক্ষার কথা ভেবে রাজ্যের হাতে থাকে সাতটি জাতীয় সড়ক ন্যাশানাল হাইওয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
যার মধ্যে রয়েছে হাসিমারা–জয়গাঁও হয়ে ভারত-ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ, বারাদিঘি–ময়নাগুড়ি–চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ এবং শিলিগুড়ি (দার্জিলিং মোড়)–কার্শিয়াং–দার্জিলিং সম্পূর্ণ অংশ। এই রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হলে সীমান্ত এলাকায় পরিবহণ ব্যবস্থায় গতি আসবে বলেও মত ওয়াকিবহালমহলের। শুধু তাই নয়, দ্রুত সরঞ্জাম থেকে শুরু করে রেশন সীমান্ত এলাকায় থাকা সেনাঘাঁটিগুলিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও মত।