ফলতার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির, শুভেন্দুর ভয়ে ‘ঝুঁক গিয়া পুষ্পা’
প্রতিদিন | ১৯ মে ২০২৬
ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভায় নির্বাচন। আজ, মঙ্গলবার ভোটের প্রচার শেষ হচ্ছে। কিন্তু তার আগেই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূয়সী প্রশংসা করে, ভোটের লড়াই থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা করেন ‘বাহুবলি’ জাহাঙ্গির খান।
দিন দুয়েক আগেই ফলতায় নির্বাচনের সভা থেকে জাহাঙ্গির খানের ‘ভার’ নিজের হাতে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, ওর দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন। এর ঠিক দিন চারেকের মধ্যে শুভেন্দু ভূয়সী প্রশংসা করে ভোটের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্রয়ে থাকা বাহুবলি জাহাঙ্গির। পলায়নের যুক্তি, ফলতার মানুষের উন্নয়ন ও শান্তিরক্ষা। এদিকে ডায়মন্ড হারবার মডেলে এহেন ধস নামতেই কটাক্ষ করল সিপিএম থেকে বিজেপি। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলেন। ওনার বস কোথায়? যে রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে হাত দিয়ে দেখাক।’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বাক্যবাণ, ‘এরা বড় বড় কথা বল, এত ঔদ্ধত্য ভয়ে পালিয়ে গেল? সিপিএম বারবার আক্রান্ত হয়েছে তাও মাটি কামড়ে থেকে লড়াই চালিয়েছে। এদের মতো পালিয়ে যায়নি।’ যদিও তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্য, পুষ্পা ভয় কেন পেল, তা খতিয়ে দেখবে দল। তাঁর কথায়, নিশ্চয় এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
ফলতার ‘ডাকাবুকো’ নেতা হিসাবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে থেকেই শিরোনামে তিনি। ওই এলাকায় ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশের দুঁদে পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। ভোটের মধ্যেই গত ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার হুঁশিয়ারির পরেও জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।’ তারপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল ঘটে। গেরুয়া শিবিরের ঝড়ে কার্যত পর্যুদস্ত তৃণমূল। এরমধ্যেই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচও নিয়েছেন। কিন্তু এরমধ্যেই ঝুঁকে গেলেন পুষ্পা!
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার উন্নয়নে স্পেশাল প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই নির্বাচন থেকে আমি সরে দাড়াচ্ছি।” এর বাইরে একটা কথাও বলেননি। উল্লেখ্য, ফলতার মানুষকে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে এক লাখেরও বেশি ভোটে জয়ের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী জয় হলে স্পেশাল প্যাকেজ ঘোষণা করবেন বলেও জানান।
তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন অনেকদিন পেরিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় নিজেকে ভোটের ময়দান থেকে সরিয়ে নিলেও ইভিএমে জাহাঙ্গির নাম থাকবে। তবে তাঁর এহেন ঘোষণার পরেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিজেপি নেতাকর্মীরা।