• ক্যানসার আক্রান্ত সতীশচন্দ্র সামন্তের পরিবারের পাশে দিব্যেন্দু অধিকারী, বাড়ি এসে দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস
    News18 বাংলা | ১৯ মে ২০২৬
  • +
    News18

    মহিষাদল, সৈকত শী: স্বাধীনতা সংগ্রামী সর্বাধিনায়ক সতীশচন্দ্র সামন্তের পরিবারের বর্তমান সদস্য অনুভাস সামন্ত। অনুভাস ক্যানসার আক্রান্ত। তিনি মহিষাদল ব্লকের একজন অস্থায়ী কর্মী। ডেটা এন্ট্রির কাজের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি অনুভাসের মা ছেলের চিকিৎসা ও কাজের ছুটির আবেদন জানাতে মহিষাদলের বিডিওর কাছে যান। অভিযোগ, বিডিও স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারকে অকথ্য ভাষায় কথাবার্তা বলার পাশাপাশি অপমান করে বিডিও এর চেম্বার থেকে বের করে দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই খবর সম্প্রচারিত হওয়ার পর সোমবার মহিষাদলের বাসুলিয়ায় সর্বাধিনায়ক সতীশচন্দ্র সামন্তের বাড়িতে হাজির হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাই এগরার বিজেপি বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী।

    তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সঙ্গে ছিলেন মহিষাদল বিধানসভার বিধায়ক সুভাষ চন্দ্র পাঁজা, তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা, মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা রঘুনাথ পন্ডা, মহিষাদলের বিধায়ক সুভাষ চন্দ্র পাঁজার আপ্তসহায়ক ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামকৃষ্ণ দাস-সহ অন্যরা। এদিন সর্বাধিনায়ক সতীশচন্দ্র সামন্তের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিব্যেন্দু জানান, “স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র সামন্তের পরিবারের সঙ্গে মহিষাদলের বিডিও যে ব্যবহার করেছে তা নিন্দনীয়। প্রশাসনিকভাবে তার ব্যবস্থাগ্রহণ হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি জেনে আমাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা জানায়। আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিবারের পাশে থাকা ক্যান্সার আক্রান্ত সদস্যের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।”

    অনুভাস জানান, “আমি ও আমার মা বিডিও সাহেবের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসার জন্য কিছু সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলাম। উনি আমাদের সঙ্গে অসভ্য ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন। খুব খারাপ লেগেছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বাড়িতে এসে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। ওঁর আশ্বাসে আরও কিছুটা সময় বাঁচার স্বপ্ন দেখছি।”

    প্রসঙ্গত, সতীশচন্দ্র সামন্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তথা অবিভক্ত মেদিনীপুরের একজন প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী। ১৯৪২ এর অগাস্ট আন্দোলনের সময় তাঁরই নেতৃত্বে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি ছিলেন প্রথম সর্বাধিনায়ক। এরপরে স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচনে তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সতীশচন্দ্র সামন্ত সাংসদ হয়েছিলেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দিব্যেন্দু অধিকারী সেই লোকসভা দু-বার  সাংসদ হয়েছিলেন।  বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর চেষ্টায় সতীশচন্দ্র সামন্তের সংগ্রহশালা ও বাড়ি যাওয়ার রাস্তাঘাট গড়ে তোলা হয়েছিল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)