স্মৃতির মণিকোঠায় বর্ণপরিচয় স্রষ্টা! বিদ্যাসাগর স্মৃতিমন্দিরে আজও সাজানো রয়েছে বিদ্যাসাগরের কৃত্রিম দাঁত থেকে দুষ্প্রাপ্য বই
News18 বাংলা | ১৯ মে ২০২৬
+
পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগর স্মৃতিমন্দির
ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দঃ মেদিনীপুরের বীর সন্তান তথা বর্ণপরিচয় স্রষ্টা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বিদ্যাসাগরের জন্ম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে। এই গ্রামের পাঠশালাতেই পড়াশোনা। মায়ের নামে তৈরি করা বিদ্যালয়। মেদিনীপুর জেলার প্রায় এক প্রান্তে এই বীরসিংহ গ্রাম এক জ্বলন্ত ইতিহাসের সাক্ষী। এই গ্রামের সিংহ শিশু আজ সারা পৃথিবীর কাছে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। বাংলার বিভিন্ন বর্ণের ধারণা দিয়েছেন পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বিদ্যাসাগর যেখানে জন্মেছিলেন সেই জন্মভিটেতেই গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যাসাগর স্মৃতিমন্দির। সরকারি সহযোগিতায় এবং স্থানীয়দের চেষ্টায় বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পবিত্র জন্মভিটে আজও এক জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী। এই ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানটি বর্তমানে ‘বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির’ নামে পরিচিত, যেখানে পা রাখলেই সকলেই বিদ্যাসাগরের স্মৃতিবিজড়িত এক অনন্য জগতের সন্ধান পান। বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির এখন এক অনন্য সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে।
এই সংগ্রহশালায় বিদ্যাসাগরের ব্যবহৃত একাধিক ব্যক্তিগত জিনিস অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বিদ্যাসাগরের বাঁধানো কৃত্রিম দাঁত, হুঁকো-পানি, স্ট্যাম্প এবং তাঁর ব্যবহৃত ভিজিটিং কার্ড। রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত ট্রাঙ্ক, মানি পার্সও। এছাড়া বিদ্যাসাগরের নিজস্ব পাঠাগারের প্রায় ২০০টি দুষ্প্রাপ্য বই, যা সময়ের নিয়মে নষ্ট হতে বসেছিল, সেগুলিকে নতুন করে পুনরুদ্ধার করে এখানে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষ্ণনগরের শিল্পীদের তৈরি মাটির পুতুলের সুনিপুণ বিন্যাসে বিদ্যাসাগরের জীবনাবর্তের নানা শিক্ষণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে এই কক্ষের দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
স্মৃতিমন্দিরের সীমানা পেরোলেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে বিদ্যাসাগরের নিজের হাতে গড়া ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি, যা বর্তমানে ‘বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়’ নামে পরিচিত। এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে রয়েছে এক অনন্য মাতৃভক্তির উপাখ্যান। ১৮৫৩ সালে বিদ্যাসাগর তাঁর মা ভগবতী দেবীকে অলঙ্কার উপহার দিতে চাইলে, তিনি গহনার বদলে ছেলের কাছে তিনটি মানবিক উপহার চেয়েছিলেন—একটি বিদ্যালয়, একটি ছাত্রাবাস এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয়। মায়ের সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই বিদ্যাসাগর নিজের ভাইদের সঙ্গে নিয়ে, নিজের হাতে কোদাল ধরে মাটি খুঁড়ে এই বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।