হাতে ডিম আর খিচুড়ি! বাড়ি যাওয়ার পথে হাতেনাতে ধরা পড়লেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা, পাকড়াও করলেন খোদ বিধায়ক!
News18 বাংলা | ১৯ মে ২০২৬
সিউড়ি, বীরভূম: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে ডিম ও খিচুড়ি বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে হাতেনাতে ধরা পড়লেন অঙ্গনকর্মী ও সহায়িকা। খোদ বিধায়কের হাতেই ধরা পড়লেন তিনি৷ ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ী ২ নম্বর ব্লকের পুরন্দরপুর ১ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে৷
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় কর্মসূচিতে ছিলেন সাঁইথিয়া বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। তিনি ওই সময় ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভিজিট করতে এসেছিলেন৷ সেই সময়ই তিনি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাকে হাতে নাতে ডিম ও খিচুড়ি নিয়ে যেতে দেখেন তিনি৷
জানা গিয়েছে, বিধায়ক এসেই দেখেন ১১ টায় আগেই তালা বন্ধ করে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা বাড়ি যাচ্ছেন৷ তাদের হাতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ডিম ও খিচুড়ি। হাতে নাতে ধরা পড়ে ভুল স্বীকার করে করেন তারা। বিধায়ক ওই অঙ্গনওয়ারি কর্মীকে নির্দেশ দিয়েছেন এই ভাবে ডিম বাড়ি নিয়ে যাবেন না, পাশাপাশি খিচুড়ি বেঁচে গেলে ফেলে দেবেন। যে সমস্ত পড়ুয়া ও গর্ভবতী মায়েরা আসছেন না তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷
প্রসঙ্গত, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে রকারি নিয়ম অনুযায়ী, শিশুদের সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হিসেবে দেওয়া হয় ডিম ও খিচুড়ি৷ গর্ভবতী মায়েদেরও দেওয়া হয় সেই খাবার৷ তবে ডিম ও খিচুড়ি ঠিকঠাকমতো পাচ্ছেন না শিশুরা, এমন অভিযোগ আগেও বহুবার উঠেছে৷
সপ্তাহখানেক আগেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট (Balurghat) ব্লকের করিমগুটিন এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ডিম দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। কেন্দ্রের সামনে অভিভাবকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় গ্রামবাসীরাও।
অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে শিশুদের পুষ্টির জন্য নিয়মিত ডিম দেওয়ার সরকারি নির্দেশিকা থাকলেও, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না। দীর্ঘ দিন ধরেই শিশুদের পাতে ডিম পড়ছে। বারবার মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁরা বিক্ষোভের পথ বেছে নিয়েছেন।