• তিন দিনে ৭০ হাজার মানুষ যোগ দিলেন ‘আরশোলা জনতা পার্টি’তে, কী বলছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ?
    এই সময় | ১৯ মে ২০২৬
  • বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ ‘আরশোলা’-র মতো আচরণ করছেন বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ যাত্রা শুরু করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (আরশোলা জনতা পার্টি)। মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই দলে যোগ দিলেন অন্তত ৭০ হাজার মানুষ! বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তৃণমূলের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজ়াদও। তাঁরাও প্রকাশ্যে এই ‘দলে’ যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্ট আশিস যোশীও।

    ‘আরশোলা’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই অবশ্য প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘একটি মামলা চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের একাংশ আমার মন্তব্যকে এমন ভুল ভাবে তুলে ধরেছে যে, তা দেখে আমি ব্যথিত। যাঁরা ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে আইনের পেশায় প্রবেশ করে থাকেন, নির্দিষ্ট ভাবে আমি তাঁদেরই সমালোচনা করেছি। এই ধরনের লোকেরাই মিডিয়া, সামাজিক মাধ্যম এবং অন্যান্য মহান পেশায় ঢুকে পড়েন। সেই জন্যই তাঁরা পরজীবীর মতো। তবে আমি দেশের তরুণদের সমালোচনা করেছি— এমন কথা একেবারেই ভিত্তিহীন।’ সেই সঙ্গে দেশের যুব সমাজের প্রশাংসাও করেছেন প্রধান বিচারপতি। যদিও তাতে ‘আরশোলা আন্দোলন’ স্তিমিত হওয়া তো দূর, জেন জ়ি-দের বড় অংশের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন বছর তিরিশের এক যুবক অভিজিৎ দীপকে।

    অভিজিৎই গত ১৬ মে এক্স হ্যান্ডলে একটি গুগল ফর্ম পোস্ট করে ‘আরশোলা জনতা পার্টি’-তে যোগদানের আহ্বান জানান। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ তাতে নিজের নাম নথিভুক্ত করেন। অভিজিৎ জানান, এই পরিমাণ সাড়া দেখে ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই তাঁরা একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলেন। তাতেই ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ নামে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠনের কথা বিস্তারিত জানানো হয়।

    আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ নিয়ে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা করছেন অভিজিৎ। মাঝে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আম আদমি পার্টির সমাজমাধ্যমের শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অভিজিৎ জানান, দেশের যুবসমাজের ভাবনা, তাঁদের প্রতিবাদ তুলে ধরতেই নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ার ভাবনা মাথায় আসে তাঁর।

    ‘দ্য হিন্দু’ সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সম্মানীয় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের বিরুদ্ধে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের প্রতিবাদী স্বর তুলে ধরে আরশোলা জনতা পার্টি। প্রধান বিচারপতি সংবিধান, বাক স্বাধীনতার রক্ষক। তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য কাম্য নয়। অল্পবয়সি ছেলেমেয়েরা সমালোচনা করলে, এই ভাবে ছোট করা যায় না তাঁদের।’

    অভিজিৎ জানিয়েছেন, ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং জাতিবিদ্বেষবর্জিত সংগঠন। এই সংগঠন মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেডকর এবং জওহরলাল নেহরুর আদর্শ অনুসরণ করে চলবে। এই সংগঠনে যোগদানের জন্য চারটি শর্ত রেখেছেন অভিজিৎ। তিনি জানিয়েছেন, বেকার, অলস, অনলাইনে অনেক সময় ব্যয় করেন এবং যাঁরা ভালো সমালোচনা করতে পারেন, তাঁরা যোগ দিতে পারবেন এই সংগঠনে।

    অভিজিতেরা একটি ইস্তেহারও প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে পাঁচ দফা দাবি তাঁদের— ১) আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই সংসদে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের করতে হবে। ২) দলবদল করা বিধায়ক এবং সাংসদেরা ২০ বছর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ৩) অবসরের পর রাজ্যসভায় জায়গা দেওয়া যাবে না বিচারপতিদের। ৪) বৈধ ভোটার বাদ পড়লে গ্রেপ্তার করতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। ৫) ‘গোদি মিডিয়া’র অ্যাঙ্করদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

    অভিজিৎ জানিয়েছেন, গোটা ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকলে চলবে না। তাঁর মত, ‘আরশোলা সহিষ্ণুতারও প্রতীক। নেহাত রসিকতা করতে আসিনি, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতে, যুবসমাজকে নানা বিষয়ে অবহিত করতে, সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে উৎসাহ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

  • Link to this news (এই সময়)