পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বেড়েছে। তখন থেকেই আশঙ্কা ছিল, এ বার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসেরও হয়তো দাম বাড়বে। সেই আশঙ্কা সত্যি করে দিন দু’য়েক আগেই দেশ জুড়ে দুধের দাম বেড়েছিল। এ বার কোপ পড়ল পাউরুটিতেও।
মঙ্গলবার মুম্বই এবং আশপাশের এলাকায় পাউরুটির দাম একধাক্কায় বাড়ল পাঁচ টাকা। তবে এখনও পর্যন্ত শুধু বাণিজ্য নগরীতেই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর সেটাও বাড়িয়েছে শুধুমাত্র ‘মডার্ন ব্রেড’ নামের একটি সংস্থাই। তবে খুব শীঘ্রই ব্রিটানিয়া, উইবস-সহ অন্য ব্র্যান্ডগুলিও দাম বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বেকারি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আর তা লাগু হতে পারে গোটা দেশেই।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে প্যাকেজিংয়ের উপকরণ এবং কাঁচামালের দাম। সোজা কথায়, পাউরুটি তৈরি থেকে শুরু করে তা ক্রেতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত, সব ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, মাল্টিগ্রেন ব্রেড আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন কিনতে হবে ৬৫ টাকায়। ৪০০ গ্রামের স্যান্ডউইচ লোফের দাম ছিল ৪০ টাকা। সেটাই বেড়ে হয়েছে ৪৫ টাকা। হোয়াইট পাউরুটির দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২২ টাকা হয়েছে। হোল হুইট ব্রেডের দাম ৫৫ টাকা ছিল, বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। আর ব্রাউন ব্রেড বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, আগে ৪৫ টাকায় পাওয়া যেত।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার পেট্রল-ডিজ়েলের দাম একধাক্কায় ৩ টাকা বাড়ানো হয়। তার পরে এ দিন ফের ৯০ পয়সা বেড়েছে। এর মধ্যেই ‘গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন’ বা আমুল পুরো দেশে দুধের দাম লিটার পিছু ২ টাকা বাড়িয়েছিল। এ বার পাউরুটির দাম বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
এর পিছনে রয়েছে কনজ়িউমার প্রাইস ইন্ডেক্স বাস্কেট। এই বাস্কেটে চাল, গম, আটা, পাউরুটির মতো খাবার রয়েছে, যে গুলো মানুষ নিয়মিত খায়। এই বাস্কেটের একটা পণ্যের দাম বাড়লে বাস্কেটের গড় দামও বেড়ে যায়। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা থাকে। আগামী দিনে এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।