রণহুঙ্কার দিয়েছিলেন— ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি’! কিন্তু ভোটের দু’দিনেই লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে গেলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে খোঁচা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার, প্রচারের শেষ দিনে ফলতায় রোড শোয়ের কর্মসূচি থেকে নাম না করে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘তোমার দেখা নাই রে... তোমার দেখা নাই...!’
ঘটনাচক্রে, দিন দুয়েক আগেই ফলতায় জনসভা করেছিলেন শুভেন্দু। সেই সভা থেকে জাহাঙ্গিরকে কার্যত হুঁশিয়ারিই দিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে তিনি নিজেই যা ব্যবস্থা করার করবেন বলে জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই মন্তব্যের পরেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জাহাঙ্গির। শর্তসাপেক্ষে তাঁকে রক্ষাকবচও দেয় আদালত। ঠিক তার পরেই জাহাঙ্গিরের ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানো সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিতক ভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। পূর্বতন শাসকদল জানিয়েছে, এটা তৃণমূলের দলগত সিদ্ধান্ত নয়। জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
মঙ্গলবার দুপুরে ফলতায় রোড শো করেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি ফলতার জন্য বিশেষ প্যাকেজেরও ঘোষণা করেন। ঠিক তার কিছু ক্ষণ পরেই সংবাদমাধ্যমের কয়েক জন প্রতিনিধিকে ডেকে জাহাঙ্গির ঘোষণা করে দেন, ফলতায় উন্নয়ন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তিনি পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তা নিয়ে শুভেন্দু পরে রোড শো থেকে বলেন, ‘...ঝুঁকে গেলেন। বলছেন, সরে গেলেন। তোমার দেখা নাই রে, তোমার দেখা নাই! পুষ্পা বলেছিল ঝুঁকেগা নেহি। আজ বলছে, আমি পগারপার। ১০০ শতাংশ ভোট চাই। পদ্মে ভোট চাই।’
জাহাঙ্গির পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই তৃণমূলের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার দুপুরে। বলা হয়, ‘ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে শুধু ফলতায় তৃণমূলের ১০০ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসংখ্য পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশন চোখ বন্ধ করে রয়েছে।’ দলের বক্তব্য, ‘তীব্র চাপের সামনে দলের নেতাকর্মীরা লড়াই চালিয়ে গেলেও কেউ কেউ সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে রাজ্যে এবং দিল্লিতে বাংলা-বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।’