আজকাল ওয়েবডেস্ক: গরুর ঠিকমতো যত্ন হচ্ছে না! আর এই অভিযোগ তুলে স্ত্রীর ওপর চলত অকথ্য অত্যাচার। স্বামীর এই নির্যাতন রোজ রোজ সহ্য করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক মহিলা। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার অন্তর্গত প্রতাপপুর এলাকায়। ইতিমধ্যে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ মৃত ওই মহিলার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই মহিলার নাম রঙ্গিলা বিবি (৩৬)। কাঞ্চননগর গ্রামের বাসিন্দা রঙ্গিলা বিবির সঙ্গে প্রায় ২০ বছর আগে ফজর আলি নামে প্রতাপপুর এলাকার এক বাসিন্দার বিয়ে হয়েছিল। পেশায় দিনমজুর এবং দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের বাবা ফজর নিজের পোষ্য গরুটিকে অত্যন্ত ভালবাসেন।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, নিজের প্রিয় গরুর দেখভালে ‘অযত্ন’ হলেই ফজরের মাথা মাঝেমধ্যেই ‘গরম’ হয়ে যেত। গত কয়েকদিন ধরে ফজরের প্রিয় পোষ্যটির কানে এবং গায়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সূত্রের খবর ফজর তাঁর স্ত্রী রঙ্গিলাকে গরুর যথাযথ যত্ন নিতে বলেছিল। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সোমবার বাড়ি ফেরার পর ফজরের মনে হয় তাঁর স্ত্রী বাড়ির পোষ্যটির ঠিকমতো যত্ন নিচ্ছে না। আর এই কারণেই হঠাৎ করেই ফজর নিজের স্ত্রীকে প্রচন্ড মারধর করতে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়াছে, এর কিছুক্ষণ পরই রঙ্গিলা বিবি অপমানে বিষ খান। যদিও বিষ খাওয়ার কথা তিনি বাড়ির কোনও সদস্যকে জানাননি। তিনি স্বাভাবিক থেকে বাড়ির সকলের জন্য রান্না করছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই রঙ্গিলা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নিকটবর্তী হরিহরপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতার ফজিলা বিবি বলেন, “আমাদের বাড়ির গরুটির কানে কিছু সমস্যা ছিল। বাবা গতকাল মাকে গরুটিকে দেখার জন্য বলেছিল। বাড়ি ফিরে আসার পর বাবার মনে হয় মা গরুর যত্ন নেয়নি। সেই কারণে মাকে, বাবা মারধর করেছিল এর কিছুক্ষণ পর মা ভাতের সঙ্গে বিষ খায়।
মৃতার এক ননদ বীণা খাতুন বলেন, “নিজের স্ত্রীর থেকেও গরুকে বেশি ভালবাসতো ফজর! গরুর কোনও রকম অযত্ন দেখলেই স্ত্রীকে মারধর করত। গরুর কিছু শারীরিক সমস্যা রঙ্গিলা ঠিক করে না দেখায় গতকালও বাড়ি ফিরে তাঁকে প্রচন্ড মারধর করে ফজর।” তিনি বলেন, “ফজরের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এরপর ঘরে ঢুকে বিষ খেয়ে নেয় রঙ্গিলা। যদিও বিষ খাওয়ার খবর সে ঘুণাক্ষরেও করেও কাউকে বুঝতে দেয়নি। এরপর স্বাভাবিকভাবেই সে বাড়ির রান্নাবান্না করতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মেয়েকে বলে বাকি থাকা রান্না শেষ করার জন্য। ঘরে ঢুকে রঙ্গিলা বিছানায় শুয়ে পড়লে তাঁর মেয়ে, মায়ের কাছে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে সে বিষ খেয়েছে। এরপর রঙ্গিলার মেয়ে গোটা বিষয়টি ফজরকে জানায়।”
অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়ও ফজর স্ত্রীকে না দেখে গরুকে ঠিকমতো যত্ন না করার জন্য অসুস্থ স্ত্রীকে আরেক প্রস্থ মারধর করেন। এর কিছুক্ষণ পর রঙ্গিলার বাড়ির লোকেরা তাঁকে স্থানীয় হরিহরপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার গোটা ঘটনাটি লিখিত আকারে অভিযোগ হিসেবে হরিহরপাড়া থানায় জানিয়েছেন রঙ্গিলার পরিবারের সদস্যরা। ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।