আজকাল ওয়েবডেস্ক: অভিষেকের গর্ব ছিল নিজের সংসদীয় এলাকা নিয়ে। গর্ব ছিল 'ডায়মন্ড হারবার' মডেল নিয়ে। সেই ডায়মন্ড হারবারকে গোটা রাজ্যের মধ্যে মডেল বানিয়ে, অন্যান্য লোকসভাতেও তার ছায়া ফেলতে চেয়েছিলেন। 'সেবাশ্রয়'-এর মাধ্যমে সেই ছায়া ফেলেওছিলেন। অন্যান্য সাংসদরাও 'ডায়মন্ড হারবার' মডেল অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই 'ডায়মন্ড হারবার' মডেল কি শেষ হয়ে গেল আজই? শেষ হল অভিষেক-ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীরের পলায়নের মধ্যে দিয়েই?
ডায়মন্ড হারবার নিয়ে অভিষেকের গর্ব ছিল না কেবল, জোরও ছিল একপ্রকার। সেখানকার প্রার্থীদের হয়ে প্রচারেও সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। ফলতায় পুনর্নির্বাচন আগামী পরশু। ঠিক তার একদিন আগে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী যেভাবে জানিয়ে দিলেন, 'সোনার ফলতা' গড়ার লক্ষ্যে তিনি ভোট লড়া থেকে সরে যাচ্ছেন, তাতে অনেকেই বলছেন, 'পুষ্পা' ঝুঁকতে গিয়ে, আসলে ঝুঁকিয়ে দিয়ে গেলেন অভিষেককেই।
যেদিন জাহাঙ্গীর জানালেন, তিনি ভোট লড়বেন না। সেদিনই কালীঘাটে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা-অভিষেক, দলের বিধায়কদের সঙ্গে। সূত্রের খবর, সেখানেও জাহাঙ্গীর ইস্যু উঠে আসে। বিধায়করা প্রশ্ন করেন, জাহাঙ্গীরকে নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেবে দল? তাকে কেন বহিষ্কার করা হবে না?
তবে একইসঙ্গে উঠে আসছে অভিষেকের একটি পুরনো টুইট প্রসঙ্গও। সেই টুইট, যেখানে অভিষেক গোটা রাষ্ট্রকে ফলতায় আসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। কী লিখেছিলেন অভিষেক সেখানে? লিখেছিলেন, 'বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং এবং তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমারের, আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে সামান্য আঁচড় কাটতে দশ জন্মও কম পড়ে যাবে। যা কিছু আছে, সব নিয়ে এসো। আমি সমগ্র ভারত ইউনিয়নকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি- ফলতায় এসো। তোমাদের সবচেয়ে শক্তিশালীকে পাঠাও, দিল্লির কোনও এক গডফাদারকে পাঠাও। যদি সাহস থাকে, ফলতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করো।'
মঙ্গলবারের পর, ফলতায় আর বিজেপিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রয়োজনই পড়বে না তৃণমূলের সঙ্গে। কারণ অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীর ভোটই লড়বেন না আর। জাহাঙ্গীর আজ কী বললেন? বললেন, 'আমি ফলতার ভূমিপুত্র। এই মাটির মানুষের পাশে সবসময় থেকেছি, আগামীতেও থাকব। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘাত বা অশান্তি সৃষ্টি করে নয়, মানুষের উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। তাই সাধারণ মানুষের শান্তি বজায় রাখতে আমি এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
জাহাঙ্গীর খান আরও দাবি করেন, 'রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।' তাঁর বক্তব্য, 'ফলতার উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই না রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হোক। তাই আমি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লড়াইয়ের থেকে এলাকার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।'