• জাহাঙ্গির কেন ফলতার পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন? জানিয়ে দিল তৃণমূল
    আজ তক | ২০ মে ২০২৬
  • ফলতার এক সময়ের বেতাজ বাদশা। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়র ঘনিষ্ঠ। সেই জাহাঙ্গির খান তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে পুনর্নির্বাচন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন রাজ্য রাজনীতিতে। কেন তিনি শেষ মুহূর্তে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? সেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল। অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের দলকেও। তা নিয়ে বিবৃতি জারি করল ঘাসফুল শিবির। 

    আজ দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অফিশিয়ালি জানানো হয়, জাহাঙ্গিরের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের। এতে দলের কোনও হাত বা ভূমিকা নেই। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল ট্য়ুইটার হ্যান্ডেলে জানানো হয়, 'ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়।' এখানেই না থেমে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধেও তোপ দাগে ঘাসফুল শিবির। 

    তাদের তরফে অভিযোগ করা হয়, '৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শুধুমাত্র ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই আমাদের দলের ১০০-রও বেশি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর, বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রকাশ্য দিবালোকে ভয় দেখিয়ে জোর করে দখল করা হয়েছে। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার থেকেছে। এত চাপের মধ্যেও আমাদের কর্মীরা দৃঢ়ভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিজেপির চালানো ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি— দুই জায়গাতেই চলবে।' 

    মঙ্গলবার সকালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২১ তারিখের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির। রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলেন, 'আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাই এলাকায় শান্তি থাকুক। সোনার ফলতা গড়ে উঠুক। সেজন্য নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার জন্য স্পেশাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। তাই নিজেকে ভোট থেকে দূরে সরিয়ে নিলাম। আমি রাজনীতিও করব না।' 

    এদিন সাংবাদিকরা জাহাঙ্গিরকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি কেন লড়াই থেকে সরিয়ে নিলেন। এটা কি ব্যক্তিগত না দলের সিদ্ধান্ত? যদিও এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, 'আমি আর কোনও প্রশ্নের উত্তর দেব না। শুধু চাই সোনার ফলতা গড়ে উঠুক।' 

    ২৯ এপ্রিল তারিখ দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোট হয়েছিল। তার আগে সেখানে পুলিশের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মাকে। তিনি জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়ে হুঁশিয়ারিও দিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। তার পাল্টাও দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। নিজেকে 'পুষ্পা' বলে দাবি করে জানিয়েছিলেন, মাথা নত করবেন না। অথচ সেই জাহাঙ্গিরই এখন ভোলবদল করল। 

    বিজেপির কটাক্ষ, সরকার বদল হওয়ার আগে এই জাহাঙ্গিরের ভয়েই নাকি বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত। অথচ ছবিটা এখন বদলে গিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'ভাইপো বাবু পুষ্পাকে গাছে তুলে মই নিয়ে পালিয়েছেন। তাই উনিও ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না। আর দাঁড়ালেও তো বুথে লোক বসানোর এজেন্ট পাবেন না।'   
  • Link to this news (আজ তক)